ধরিত্রী - তুমি ও আমি
ধরিত্রী - তুমি ও আমি
তুমি আমাকে চেয়েছ - আমি হয়েছি আকাশ
আমি চেয়েছি তোমাকে - তুমি হয়েছ পৃথিবী
আর আমরা কখনো এক হতে পারিনি - হে ধরিত্রী।
দৌড়ে তুমি কোথায় যাবে ধরিত্রী?
তোমার নরম ছোট্ট পা
ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাবে ধরিত্রী!
সপ্ত সমুদ্রের গর্জন
এক সাথে শোনা যাবে তোমার বুকে
ক্লান্ত হয়ে পড়বে
ছুটতে ছুটতে ধরিত্রী।
এসো তুমি আজ
আমার অপেক্ষামান করতলে
হে ধরিত্রী।
দশ দিক আর্তনাদ করে তো করুক
সমুদ্র উপচে উঠুক নীল সাদা ফেনায়
হাওয়া ও যদি হয়ে যায় রক্তের মত লাল
তবুও তাতে কিছু আসে যায় না
কেননা সময়ও জানে না ভবিষ্যতের ঠিকানা
আর শতাব্দীর পর শতাব্দী
মর্য্যাদার শিকলে বাঁধা আমি
আজ আমি চাই তোমার দেহকে চিনতে
হ্যাঁ আজই, হে ধরিত্রী।
সেই কবে থেকে
ঘুমিয়ে আছে ধরিত্রী
সুন্দর শ্যামল দুর্বার বিছানায়
দীর্ঘ ও গভীর পাহাড়ি উপত্যকায়
ধরিত্রীর নিষ্কলুষ ঘুম ও স্বপ্ন
যেন সেই উপত্যকার মধ্যে দিয়ে
বয়ে যাওয়া একটা রূপোলি নদী।
কেউ তো জানে না কবে থেকে
সেই নদীতে স্নান করে
সুন্দর, আরো সুন্দর হচ্ছে ধরিত্রী
কিন্তু নির্ভর করো না
সময়ের উপর ধরিত্রী!
কান পেতে শোন
সকাল হতে এখনো
অনেক দেরি, হে ধরিত্রী।
তোমার শরীর যেন
সবুজ মাঠ ধরিত্রী
আমার দেহেতে ও
আছে মেঘের ঘ্রান।
আমরা মিলিত হয়ে করছি
যেন শ্রাবণের প্রতীক্ষা
হে ধরিত্রী।
অনেক উড়েছ তুমি ধরিত্রী
রামধনু রঙা আকাশে।
পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছ
গ্রহদের রাজ্যে নক্ষত্রদের দেশে।
এসো, আমরা উড়ি
আর একবার.....শেষবার।
দুহাত ছড়িয়ে দাও ধরিত্রী
আজ আমি চাই
প্রথম ও শেষবারের মত
তোমার দেহের আকাশে
ডানা মেলে দিতে
হে ধরিত্রী।
ধরিত্রী - তুমিই আমার পৃথিবী
তুমিই মাটি তুমিই জল
তুমিই ফুল তুমিই ফল
রূপও তুমি রঙও তুমি
আদিম ও উত্তেজক
সঙ্গীতময় তোমার শরীর-
একটা রক্তলাল
গোলাপের মত
আমি, হ্যাঁ আমিই
ফুটে উঠি বারবার
তোমারই শরীরে
হে ধরিত্রী।
(রথযাত্রা ১৪২০ তে কুলিশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন কবিদের কবিতা সঙ্কলন "কথামালা" এ এই কবিতাটি স্থান পায়।)

0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home