ভূতের রকমফের
ভূত চতুর্দশী স্পেশাল।
১.শাকচুন্নী
এটি হচ্ছে পেত্নী জাতীয় ভূত। অল্প বয়সে যাদের বিয়ে হয় এবং অপঘাতে, অত্যাচারে মারা গেলে এ ধরনের শাকচুন্নী তৈরি হয়। এরা সাধারনতো সাদা কাপড় পড়ে। থাকে খাল -বিল -পুকুর ঘাটের পাশে গাছে। এরা আমার মতো সুন্দর ছেলেদের ধরতে চায়। পুকুর থেকে মাছ ধরে দিতে বলে। তবে ভুলেও এ কাজ করা যাবে না।
২.চোরাচুন্নী
এরা হচ্ছে চোর ভূত এবং ভূতের বউ। এরা সাধারনত মানুষের অনিস্ট করে মজা পায়। খালি বাড়ি পেলে ভিতরে ঢুকে জিনিস পত্র ভাংচুর করে।
৩.মেছোভূত
মাছলোভী ভূত। বাংলার ইতিহাসে সব চেয়ে ছেঁছড়া ভূত। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে নিয়ে যদি একা একা রাতে বাড়ি ফিরে তাহলে ধরে।
৪.পেঁচাভূত
পেঁচার সাথে একটা পেঁচি ও থাকে। এদের চোখ রাতের বেলায় লাল রং ধারন করে এবং জ্বল জ্বল করে। এরা একা কাউকে পেয়ে বসলে মেরে ফেলে। এদের খপ্পরে পড়লে বাঁচার কোন উপায় নেই।
৫.মামদো ভূত
এরা নাকি মুসলমান ভূত। এদের এই যুগে দেখা যায় না।
৬.ব্রহ্মদৈত্য
এরা খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বামুন ভূত। বেলগাছ ও বাংলা সিনেমায় এদের আস্তানা। নোংরা, অপরিষ্কার থাকলে ধরে ঘাড় মটকে দেয়। উপকারী ভূত হিসেবে সুনাম আছে।
৭.স্কন্ধকাটা
মাথা ছাড়া অনেক প্রাচীন কালের ভূত। অতীতে এদের মাথা কেটে শাস্তি দেয়া হতো। এদের চোখ থাকে বুকে, অনেকেরই আবার থাকে না। এদের ধড় দিয়ে রক্ত টগবগ করে।নাগালে পেলে আপনাকে ধরে মাথা টেনে ছিঁড়ে ফেলবে। কি ভয়ংকর! বাঁচার উপর গায়ে যত শক্তি আছে তা কাজে লাগিয়ে দৌড় দেয়া।
৮.আলেয়া :
এ ভূত থাকে জলাশয়ে, নদীতে। এরা ধোঁয়াশা করে রাখে সবকিছু। পথ ভুলিয়ে নিয়ে যায় জেলে, মাঝিদের। তারপর ডুবিয়ে মারে। তবে মেয়ে আলেয়া ভূত জেলেদের উপকার করে।
৯.নিশি
এইটা হলো মায়াবী ভূত। এরা ছেলে মেয়ে উভয় হতে পারে। এরা রাতে আসে। আপনাকে মায়ার সুরে ডাকবে। ঘরের বাইরে নিবে। তারপর মেরে ফেলবে। এদের আবার তান্ত্রিকরা পোষে । এদের থেকে বাঁচার উপায় হইলো রাতে যখন এরা ডাকবে তখন তিনবার না ডাকা পর্যন্ত সাড়া না দেয়া। কারন এরা দুবারের বেশি কাউকে ডাকতে পারে না।
১০.কানাখোলা
এরা থাকে চরাঞ্চলে। একা পেলে আপনাকে সম্মোহিত করে বার বার এ মাথা থেকে ও মাথা হাঁটাবে। এদের খপ্পরে না পড়ার উপায় হইলো একা একা চরে না যাওয়া।
১১.কাঁদার মা :
এরা তিন রাস্তার মোড়ে লালশাড়ী পড়ে কান্না কাটি করে। আপনাকে মিথ্যা অথচ বিশ্বাস্য গল্প শুনিয়ে লোভ দেখিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যাবে। তারপর আপনাকে মেরে ঝুলিয়ে দিবে।
১২.ভূলো :
এরা আপনার সাথে কোন খাদ্য থাকলে আপনাকে হাঁটাবে। আর খাদ্য খেয়ে শেষ করবে। আপনি কোন পঁথে কোন দিকে যাচ্ছেন কিছু বুঝতে পারবেন না। একসময় হাঁটতে হাঁটতে আপনার কান্না চলে আসবে। তখন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।
১৩.ডাকিনী
এরা হচ্ছে ডাকাত ভূত। ডাকাতি করতে গিয়ে যারা গৃহস্তের হাতে নির্মমভাবে বলি হয়েছে তাদের আত্মা। এরা যুগ যুগ ধরে ঐ পরিবারের মানুষকে জ্বালাতন করে।
১৪.বোবাভূত :
এরা ঘুমের মধ্যে ধরে। ভূত। আমাকেও ধরে। জানটা যেন যায় যায় অবস্থা! শেষে ছেড়ে দেয়। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তেঁড়া, বাঁকা হয়ে শুতে হয়। লম্বা হয়ে শোয়া যাবে না। পায়ের বুড়ো আঙ্গুল আর নাক এক দম টান টান হলে এ ভূতে ধরার সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়াও,
মোহিনী, শাকিনী, ডাইনি, বেঘোভূত
কারিয়া পিরেত, লুল্লু ভূত
আহা ভূত, বাহা ভূত
কিবা ভূত, কিম্ভূত
বাবা ভূত, ছানা ভূত
খোঁড়া ভূত, কানা ভূত
কাঁচা ভূত, পাকা ভূত
সোজা ভূত, বাঁকা ভূত
রোগা ভূত, মোটা ভূত
আধা ভূত, গোটা ভূত
আরো হাজার ভূতের রাজার কাহিনী তো আমরা জানিই।
চোদ্দ শাক, চোদ্দ প্রদীপ এর সঙ্গে চোদ্দ ভূতের সন্ধান দিলাম, ভূতপিডিয়া ঘেঁটে।
নেট থেকে পাওয়া


0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home