Monday, March 29, 2021

শুভ দোলযাত্রার শুভেচ্ছা। Wishing you all a very happy Holi




 अयं होलीमहोत्सवः भवत्कृते भवत्परिवारकृते च।

क्षेमस्थैर्य-आयुः-आरोग्य-ऐश्वर्य-अभिवृद्घिकारकः भवतु।।


आयुर्धनं शुभ्रयशोवितानं, निरामयं जीवनसंविधानम्।

समागतो होलिकोत्सवोऽयं,ददातु ते मांगलिकं विधानम्।।


सूर्य संवेदना पुष्पे, दीप्ति कारुण्यगंधने।

लब्ध्वा शुभं होलिकापर्वेऽस्मिन कुर्यात्सर्वस्य मंगलम्‌।।


।।होलिकाया: हार्दिकशुभाशयाः


जिस तरह सूर्य प्रकाश देता है, संवेदना करुणा

को जन्म देती है, पुष्प सदैव महकता रहता है,

उसी तरह आने वाला यह होली का पर्व आपके लिए हर दिन, हर पल के लिए मंगलमय हो।

होली की हार्दिक शुभकामनायें!


....রাঙিয়ে দিয়ে যাও, যাও   

যাও গো এবার যাবার আগে--

তোমার আপন রাগে,

তোমার গোপন রাগে

তোমার তরুণ হাসির অরুণ রাগে

অশ্রুজলের করুণ রাগে

রঙ যেন মোর মর্মে লাগে,  

আমার সকল কর্মে লাগে,

সন্ধ্যাদীপের আলোয় লাগে,  

গভীর রাতের জাগায় লাগে॥

যাবার আগে যাও গো আমায় জাগিয়ে দিয়ে,

রক্তে তোমার চরণ-দোলা লাগিয়ে দিয়ে...


বসন্তের এই রঙ লাগুক প্রাণে।পূর্ণ 

হোক সবার আশা, ভালবাসা।

সবাইকে জানাই শুভ হোলি ও দোলযাত্রা।


Wishing you and your family all the success and prosperity this Holi! May God grant you peace of mind and good health. Happy Holi! May the year ahead be prosperous and happy and every day is as colourful as Holi.

Saturday, March 20, 2021

Wishing you all on World Poetry Day

 প্রতিটি বৃষ্টি বিন্দু 

সমুদ্রের প্রতিভূ

প্রতিটি শব্দ

যেমন কবিতার।


বিশ্ব কবিতা দিবসে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।


Every raindrop 

Represents the Ocean

As every word

Represents poetry.


Wishing you all on World Poetry Day.




Tuesday, March 16, 2021

বাঙ্গালীর ফলার খাওয়া

 বাঙ্গালীর ফলার খাওয়া


আজ রবিবার। আসুন আজ একটু খাওয়া দাওয়া নিয়ে আলোচনা করা যাক। 


আমার মতে ভারতে অন্তত বাঙ্গালীদের মত ভোজন রসিক জাত আর কেউ নেই।


আমার অবাঙ্গালী বন্ধুরা এই অব্দি পড়ে হয়ত রে রে করে উঠবেন এই বলে যে, " তুই ব্যাটা নিজে বাঙ্গালী বলে নিজের জাতের হয়ে কথা বলছিস।"


তাদের আমি সম্মান সহকারে বলব, " ধীরে বন্ধু ধীরে! একথাটা আমি এমনি এমনি বলছি না। বলছি অভিজ্ঞতা থেকে। চাকরি সূত্রে সমগ্র ভারত ঘুরতে হয়েছে। অল্প স্বল্প বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও আছে। কোন নতুন যায়গায় গেলে সেখানের স্থানীয় খাদ্যাভাস সম্বন্ধে খোঁজ খবর নেওয়া আমার অভ্যাস। নেহাতই বাঙ্গালীর খাদ্যাভাস নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সেভাবে লেখালেখি হয়নি যেভাবে ফরাসী বা চিনা খাবার নিয়ে হয়েছে। নাহলে বাঙ্গালীর খাদ্যাভাস পৃথিবীতে এক নম্বর হত। "


বাঙ্গালীর খাদ্যভাসের প্রথম গুণ হল এর ব্যাপকতা। আমিষ নিরামিষ মিষ্টান্ন সবকিছুই বাঙ্গালী অতি উতসাহের সাথে খেয়ে থাকে। বাঙ্গালীর আরেকটা গুণ হল বাঙ্গালী সব রকম খাদ্যকেই আপন করে নিতে পারে। 


বাঙ্গালী মাছের ঝোল যেমন খায়, তেমন ভালবেসে বিরিয়ানিও খায়, চাউমিনও খায়, মোমোও খায়, বার্গারও খায়। 


বাঙ্গালী মাটন চিকেন যেমন খায় তেমন কাঁকড়া কচ্ছপও খায় (মানে খেত - এখন কচ্ছপ মারা বেআইনি)।


 ফল মূল অবশ্য সাধারণ ভাবে বাঙ্গালীরা অতটা ভালবাসে না। কিন্তু তাও কিছুটা খায়। 


এছাড়া একই খাবার বিভিন্ন ভাবে রান্না করতে বাঙ্গালীর জুড়ি নেই। সাধারণ মাছের ঝোলও যদি দশজন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে রান্না করানো যায় তাহলে প্রতিক্ষেত্রেই তার স্বাদ আলাদা আলাদা হবে। সাধারণ ভাবে বাঙ্গালীরা রান্নার কোন স্ট্যান্ডার্ড ফরমুলা ব্যবহার করেন না।


আমি নিজের পরিবারে দেখেছি যে ঠাকুমার রান্না ছিল এক রকম, দিদিমার আরেক রকম, মায়ের এক রকম তো মাসীমার আরেক রকম। পিসিমাদের রান্না এক রকম তো মামীমাদের রান্না আরেক রকম। 


ভারতে এখনও বাঙ্গালীরাই নিজেদের রোজগারের সব থেকে বেশি অংশ ব্যয় করে খাওয়া দাওয়ার পেছনে। 


আজ বাঙ্গালীদের ফলার খাওয়া নিয়ে কিছু বলছি। একসময় বাঙ্গালী ব্রাহ্মণরা কোন অব্রাহ্মণের বাড়ি থেকে ব্রাহ্মণ ভোজনের নিমন্ত্রণ পেলে, সেখানে অন্ন গ্রহণ করতেন না। অন্নের বদলে ফলার গ্রহণ করতেন। 


কিছু ধর্মীয় উৎসব যেমন - মহাশিবরাত্রি বা জন্মাষ্টমী তে উপবাস করলে, শুধু ব্রাহ্মণরাই নন, অব্রাহ্মণরাও ফলার গ্রহণ করতেন।


ফলার বাংলার একটি প্রাচীন এবং বহুলপ্রচলিত খাদ্যাভাস। একসাথে ফল ও আহার অথবা ফলমিশ্রিত আহারকে বলা হয় ফলাহার, যার চলিতরূপ হল ফলার। ভাত ছাড়া অন্যান্য নিরামিষ পদযুক্ত আহারকেই ফলার বলে। 


ফলারে নিরামিষ পদের মধ্যে সাধারণতঃ লুচি, চিঁড়ে, দই, মিষ্টি ও ফলকেই গণ্য করা হয়। গোড়ায় ফলার বলতে খুব মিহি সরু চিঁড়ে ও মুড়কি, তার সাথে দই, চিনি, ক্ষীর এবং পাকা আম, কাঁঠাল, কলা প্রভৃতি ফল সহযোগে যে খাবার উৎসব-অনুষ্ঠান উপলক্ষে পরিবেশিত হত, তাকেই বোঝাত।


ফলার ঠিক কতদিনের প্রাচীন তা বলা কঠিন, তবে মধ্যযুগীয় বাংলায় এই খাবারটির বেশ প্রচলন ছিল। বৈষ্ণবদের মহোৎসবে প্রচলিত প্রসিদ্ধ 'চিঁড়াভোগ' এই ফলারেরই আরেকরূপ। 


ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধে পানিহাটিতে নিত্যানন্দপ্রভুর আগমন উপলক্ষে ভক্ত রঘুনাথদাস বিখ্যাত চিঁড়া - দধি মহোৎসব আয়োজন করেন। সেই উৎসবে প্রচুর পরিমাণ চিঁড়ে, দই, দুধ, সন্দেশ ও কলা ভক্তদের মধ্যে পরিবেশিত হয়েছিল। 


এর কিছুকাল পরে নরোত্তমদাস-আয়োজিত খেতুরীর প্রসিদ্ধ মহোৎসবেও চিঁড়ে-দই পরিবেশন করার কথা জানা যায়। বৈষ্ণব মহোৎসবে মাটির সরা বা মালসায় এই খাবারটি অগণিত ভক্তদের মধ্যে বিলানো হত। এখনও বৈষ্ণবদের উৎসবে ফলারের বেশ চলন আছে। তবে জাতিভেদ প্রথা শিথিল হবার সাথে সাথে ফলারের প্রচলন অনেকটাই কমে গেছে।


'কবিকঙ্কণ-চণ্ডী'-তে নিদয়ার সাধে খাবারের তালিকায় 'চিঁড়া চাঁপাকলা দুধের সর' এবং ভালো 'মহিষা-দই', খই, চিনি ও পাকা চাঁপাকলা মিশ্রিত ফলারের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেকালে দুপুরের খাবারের আগে বাড়ির মহিলারা স্নান করে সকালে 'খণ্ড, কলা, চিঁড়া ও দই খেতেন।


 'কবিকঙ্কণ-চণ্ডী'-তে আছে:

স্নান করি দুর্বলা খায় দধি খণ্ড কলা

চিঁড়া দই দেয় ভারি জনে।


প্রাতরাশের জন্যে সেকালে 'খণ্ড', চিনি, চাঁপাকলার বহুল ব্যবহার ছিল। 


আঠারো শতকের শেষার্ধের কবি অকিঞ্চন চক্রবর্তীর 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে লহনা কর্তৃক খুল্লনাকে আপ্যায়ণ করে 'জলপান'-এর জন্যে এই দ্রব্যগুলি প্রদানের উল্লেখ আছে।


 ফলারকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্যে নদীয়া-কৃষ্ণনগরের কিছু ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। শোনা যায়, এই অঞ্চলের এক গোয়ালা কোন সময় তদানীন্তন নদীয়া রাজকে কলা পাতায় করে খুব মিহি চিঁড়ে, অতি সুস্বাদু ক্ষীর, দই, কলা ও অন্যান্য ফল দিয়ে এমন অ্যাপ্যায়িত করেছিলেন যে, রাজাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন।


 সময়ের সাথে সাথে প্রাচীন বাংলার এই উত্তম ও সরস খাদ্যটির তালিকায় যুক্ত হয় লুচি, কচুরি, মিঠাইমণ্ডা প্রভৃতি। 


এর ফলে ফলার, কাঁচা ফলার ও পাকা ফলার, এই দুই শ্রেণীতে  ভাগ হয়ে যায়।  চিঁড়ে, দই, মিষ্টি ও ফল সহযোগে যে ফলার তাকে কাঁচা ফলার বলে। পাকা ফলারে লুচি থাকে। সাধারণতঃ লুচির সাথে ছানা ও চিনিকে পাকা ফলার বলা হয়। অবশ্য ছানাও বাঙ্গালীদের মধ্যে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কেননা ছানার প্রচলন করেছিল বিদেশিরা


 বাংলায়  ছানার আবির্ভাব পর্তুগিজদের হাত ধরে৷ ষোড়শ শতকে পর্তুগিজরা ভারতে প্রথমবার পা ফেলল এবং তাদের সঙ্গেই ছানা চলে এল ৷


পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল অঞ্চলে তারা তাদের ঘাঁটি গড়ে তোলার পর শুরু হল ছানার যাত্রা৷ পর্তুগিজরা মূলত ৩ রকম চিজ তৈরি করত৷ তার মধ্যে "কটেজ চিজ" ছিল ছানার আদি প্রকার৷


 এছাড়াও "ব্যান্ডেল চিজ" যা বার্মার (বর্তমানে মায়ানমার) রাঁধুনিদের দ্বারা তৈরি হয়েছিল পর্তুগিজদের তত্ত্বাবধানে এবং "ঢাকাই পনির"৷ ব্যান্ডেল চিজ কিন্তু আজও সমান জনপ্রিয় এবং কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে যেমন নিউ মার্কেট অঞ্চলেও পাওয়া যায়৷ উপমহাদেশে ছানা তৈরির শিক্ষাবিস্তার অনেক পরের ঘটনা৷ এমনকী প্রথম দিকে ছানা ও ছানার মিষ্টি একরকম পরিত্যাজ্যই ছিল ধর্মীয় কারণে।


১২৬১ বঙ্গাব্দে লেখা পণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্নের 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকে, উত্তম, মধ্যম ও অধম— এই তিন প্রকার ফলারের বর্ণনা আছে, তা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক৷পড়ে দেখুন৷ভাল লাগবে৷


উত্তম ফলার


ঘিয়ে ভাজা তপ্ত লুচি

দুচারি আদার কুচি

কচুরি তাহাতে খান দুই৷

ছক্কা আর শাক ভাজা

মতিচুর বোঁদে খাজা

আহারের জোগাড় বড়ই৷

নিখুঁতি জিলিপি গজা 

ছানাবড়া বড় মজা 

শুনে শকশক করে নোলা৷

হরেক রকম মণ্ডা

যদি দেয় গণ্ডা গণ্ডা

যত খাই তত হয় তোলা৷

খুরি খুরি ক্ষীর তায়

চাহিলে অধিক পায়

কাতরি কাটিয়া শুকো দই৷

অনন্তর বাম হাতে

দক্ষিণা পানের সাথে

উত্তম ফলার তারে কই৷


মধ্যম ফলার


সরু চিঁড়ে শুকো দই

মর্তমান ও ফাঁকা খই

খাসা মণ্ডা পাত পোরা হয়৷

বৈদিক ব্রাহ্মণ তবে

মধ্যম ফলার কবে

দক্ষিণাটা ইহাতেও রয়৷


অধম ফলার


গুমো চিঁড়ে জলো দই

তেতো গুড় ধেনো খই

পেট ভরা তাও নাহি হয়৷

রৌদ্দুরেতে মাথা ফাটে

হাত দিয়ে পাত চাটে

অধম ফলার তারে কয়৷


তথ্যসূত্রঃ 

   সংসদ বাংলা অভিধান - শৈলেন্দ্র বিশ্বাস 

   বাংলার খাবার - প্রণব রায়

   কবিকঙ্কণ চণ্ডী, কুলীন কুল সর্বস্ব

   পঞ্চতন্ত্র - সৈয়দ মুজতবা আলি।

   চলন্তিকা - রাজশেখর বসু

   নেট ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা



Wednesday, March 10, 2021

A letter which is self explanatory

A PAGE FROM HISTORy

A letter which is self explanatory


From: Officiating Secretary to the Govt. of India


To

The Registrar,                      30th March 1908

Through the Hon'ble Rector

(Home Department. Education)

Calcutta University


Sir,

       I am directed to state for the information of the Syndicate and Senate of the Calcutta University that the Governor General in Council has been pleased to reappoint the Hon'ble Mr. Justice Asutish Mukherjee, M.A., D.L., D.Sc., F.R.A.S., F.R.S.E.,  to the Vice Chancellor of the University.

                              I have the honour to be Sir,

                            Your most obedient servant

                                      H. A. Stuart

     Officiating Secretary to the Govt. of India


Source: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচিত্র কাহিনীঃ অমূল্য চন্দ্র কর্মকার



যা খুশি তাই খেয়ে যান

 যা খুশি তাই খেয়ে যান কারণ

হাঁটার মেশিন ট্রেডমিলের উদ্ভাবক ৫৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। 

জিমন্যাস্টিকসের উদ্ভাবক ৫৭ বছর বয়সে। ওয়ার্ল্ড বডি বিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন ৪১ বছর বয়সে মারা গেছেন। বিশ্বের সেরা ফুটবলার ম্যারাডোনা ৬০ বছর বয়সে মারা গেলেন। 

এখন ------

কেএফসি আবিষ্কারক মারা গেলেন ৯৪ এ। নিউটেলার বিনিয়োগকারী ৮৮ বছর বয়সে মারা যান, 

তুর্কি শুরমেহ এবং স্টেকের আবিষ্কারক ১০৪ বছর বয়সে মারা যান। সিগারেট উদ্ভাবক এবং প্রস্তুতকারী উইনস্টন ১০২ বছর বয়সে মারা গেছেন। আফিমের আবিষ্কারক এক ভূমিকম্পে ১১৬ বছর বয়সে মারা যান। হেনেসি হুইস্কি আবিষ্কারক ৯৮ বছর বয়সে মারা যান। আফগানি খাবারের উদ্ভাবকরা (কাবেলি, মান্টো এবং চাপলি কাবাব) এখনও বেঁচে আছেন।

এখন চিকিৎসকরা কীভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে ব্যায়াম জীবনকে দীর্ঘায়িত করে?

খরগোশ সর্বদা প্রাণবন্ত এবং ২ বছর বাঁচে, তবে কচ্ছপ যে জায়গা থেকে নড়ে না সে বাঁচে ৪০০ বছর।

সুতরাং, বিশ্বের শেষ অবধি বিশ্রাম, খাওয়া এবং পানীয় উপভোগ করুন ....


(সংগৃহীত)

Tuesday, March 9, 2021

ভোজ কয় যাহারে

 ভোজ কয় যাহারে 


(১)


প্রথমেই বলে রাখি যে এই ঘটনাটি কিন্তু আমার লেখা নয়। এই ঘটনাটি আমি শুনেছিলাম আমার পিতৃদেব স্বর্গত শ্রী সন্তোষ কুমার দত্ত মহাশয়ের কাছ থেকে।


গত শতাব্দীর চল্লিশের দশক। আমার পিতৃদেব তখন দিল্লির রাইসিনা বেঙ্গলি স্কুলের ছাত্র। তখন দিল্লি শহরে সাধারণ মানুষদের যাতায়াতের মাধ্যম ছিল সাইকেল ও টাঙ্গা। ছাত্র থেকে শুরু করে গেজেটেড অফিসার সবাই সাইকেল ব্যবহার করতেন ও তাতে স্ট্যাটাস সিম্বলের হানি হতনা। 


যারা বিখ্যাত লেখক যাযাবরের লেখা বই "দৃষ্টিপাত" পড়েছেন তারা ব্যাপার টা বুঝবেন। বইটি সেই সময়ের দিল্লির পটভূমিকায়  লেখা।


আমার দাদুর সরকারী কোয়ার্টার ছিল আরউইন রোডে। যার নাম এখন বাবা খড়ক সিং মার্গ। 


(২)


এবার পিতৃদেব যা বলেছিলে তা তাঁরই ভাষায় লিখছি।


তোদের দেখলে আমি অবাক হয়ে যাই। তোরা বাস ছাড়া চলতে পারিস না। এক দু মাইল যেতে গেলেও তোদের বাসে চড়তে হয়। আর আমরা আমাদের ছাত্র জীবন থেকে সাইকেলে অভ্যস্ত ছিলাম। এই সাইকেলে চড়েই সারা দিল্লি শহর ঘুরে বেড়িয়েছি। 


আর শুধু দিল্লি কেন, এই সাইকেল চালিয়ে একেবারে আগ্রা অব্দি ঘুরে এসেছি। তাও একবার নয় বেশ কয়েকবার। প্রথমবার সাইকেলে আগ্রা গেছিলাম হায়ার সেকেণ্ডারি পরীক্ষা দিয়ে। 


১৯৪৯ সালের গ্রীষ্মকাল। হায়ার সেকেণ্ডারি পরীক্ষা হয়ে গেছে। সামনে লম্বা ছুটি। আমরা চার বন্ধু ঠিক করলাম যে সাইকেলে আগ্রা যাব। 


দিল্লি থেকে সকাল সকাল যাত্রা শুরু করব। মথুরা বৃন্দাবনে দুদিন করে থেকে তার পর আগ্রা পৌঁছাব।  তারপর আগ্রায় কিছুদিন থেকে বাড়ি ফেরা। 


যাত্রা শুরুর আগের দিন রাত্রে পাশের কোয়ার্টারের কাকিমা এলেন একটা অনুরোধ নিয়ে।


" সন্তোষ, তোরা তো বৃন্দাবনে আর মথুরায় থাকবি। আমি গতবছর মানত করেছিলাম যে একজন ব্রাহ্মণ ভোজন করাব। তা সেই ব্রাহ্মণ ভোজন যদি মথুরায় বা বৃন্দাবনে করানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়। আমি তোকে দশ টাকা দিচ্ছি। তুই বাবা, একজন সদব্রাহ্মণ দেখে ভোজন করিয়ে দিস।"


" ঠিক আছে কাকিমা, এ আর এমন কি ব্যাপার। ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে দেব।" 


কাকিমা আমাকে দশ টাকা দিয়ে গেলেন। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম যে একজন ব্রাহ্মণ ভোজন করাতে কি এত টাকা লাগবে। সেই সময়ের  হিসাবে দশ টাকা অনেক টাকা। তার উপর আবার মথুরায় বা বৃন্দাবনে খাবার খরচা দিল্লির থেকে কমই হবে। যাকগে এর থেকে কিছু বাঁচলে কাকিমাকে ফেরত দিয়ে দেব।


(৩)


দিল্লি থেকে ভোরে যাত্রা করে আমরা চার বন্ধু বিকেল নাগাদ মথুরা পৌঁছলাম। এক ধর্মশালায় উঠলাম। পরদিন সকালে ঘুরতে ঘুরতে হাজির হলাম মথুরা স্টেশনে। সেখানে দেখলাম যে অনেক পাণ্ডা ঘোরাঘুরি করছে। তাদের মধ্যে থেকে একজন অল্প বয়স্ক রোগা লম্বা পাণ্ডার সাথে আলাপ হল। পাণ্ডাজির বয়েস আমাদেরই মত। পাণ্ডাজির নাম রামদর্শন পাণ্ডা।  খানিকক্ষণ গল্প গাছা করার পর আমি পাণ্ডাজিকে ভোজনের জন্য আমন্ত্রণ জানালাম।


পাণ্ডাজি খুব খুশি হয়ে বললেন, " যজমান, এতো অতি উত্তম কথা। তবে এখন যাত্রীদের আসার সময়। আমাকে এখন যাত্রীদের ধর্মশালায় নিয়ে যেতে হবে। মন্দির - উন্দির দর্শন করাতে হবে। আমি ঠিক দো বাজে আপনাদের সাথে বড়বাজারের মোড়ে দেখা করব। আপ লোগো কা কল্যাণ হো যজমান। " 


(৪)


ঠিক দুটোর সময় আমি আর আমার এক বন্ধু বড়বাজারের মোড়ে পৌঁছে গেলাম। রামদর্শন পাণ্ডাজিও স্নান টান করে, ফোঁটা তিলক কেটে উপস্থিত। ওখানে সারি সারি মিষ্টি ও পুরী সব্জীর দোকান। রামদর্শন পাণ্ডাকে একটা দোকানের বেঞ্চিতে বসিয়ে দোকানদারকে বললাম পুরী সব্জী দিতে। 


দোকানদার একবার আড়চোখে রামদর্শনজির তাকিয়ে দুসের পুরী ও সেই অনুপাতে সব্জী শালপাতার পাতায় করে পরিবেশন করল। 


আমি মনে মনে ভাবলাম এত কি লোকে খেতে পারে নাকি। 


কিন্তু আমাদের দুই বন্ধুকে অবাক করে দিয়ে রামদর্শন পাণ্ডাজি অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে হাত চালাতে লাগলেন। দোকানের এক পাশে বিরাট থালায় খাঁটি ঘিয়ের হালুয়া রাখা ছিল। খেতে খেতেই রামদর্শনজি সেই দিকে আঙুল দেখালেন। দোকানদার সের খানেক হালুয়া দিল। তাও অতি দ্রুততায় উদরস্থ করে হাতের ইশারায় আবার পুরী সব্জী চাইলেন রামদর্শন পাণ্ডাজি। 


আবার সের দুয়েক পুরী সব্জী পরিবেশন করল দোকানদার। পুরী সব্জী উদরস্থ করতে করতে রামদর্শন পাণ্ডাজি এবার বরফি ও প্যাঁড়ার দিকে আঙুল তুললেন৷ দোকানদার তাও এক এক সের দিল। 


(৫)


সেই খাওয়ার বহর দেখে আমাদের তো চক্ষু চড়কগাছ। দোকানদার দিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই আর রামদর্শন পাণ্ডাজির খাওয়া চলছে তো চলছেই। দোকানদারের দিতে যা দেরি। নিমেষে সব উড়ে যাচ্ছে। ওই রোগা শরীরের মধ্যে সব ঢোকাচ্ছে কোথায় কে জানে। 


চতুর্থবার পুরী ওজন করতে করতে দোকানদার জানাল যে খাবারের দাম চব্বিশ টাকা পার হয়ে গেছে। 


এবার আমার হুঁশ হয়। আমার পুঁজি তো দশ টাকা।  বন্ধু আমার কানে কানে বলে এবার ব্যাটাকে থামানো দরকার। নয়ত আমাদের সব টাকাই ব্যাটার পেটে ঢুকে যাবে আর আমাদেরও আর আগ্রা অব্দি যেতে হবেনা। মথুরা থেকেই দিল্লি ফিরতে হবে।


এর মধ্যে রামদর্শন জি রাবড়ির দিকে আঙুল তুলেছেন। দোকানদারও সের খানেক রাবড়ি রামদর্শনজির সামনে নামিয়ে রেখেছে।


এবার আমি অনুভব করি যে আমি বিপদের মধ্যে পড়তে চলেছি। এই আসুরিক খাওয়ার ব্যয় সামলানো আমার পক্ষে অসম্ভব। 


কিন্তু কি করি। দোকানদারকে বলে লাভ নেই। কেননা রামদর্শনজি যত খাবেন দোকানদারের ততই লাভ। 


(৬) 


অস্থির হয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে আসি। খোদ দ্বারকাধীশ বোধহয় আমার বিপদ বুঝতে পেরেছিলেন। তাই দোকানের সামনে আমার এক বৃদ্ধ ব্যক্তির সাথে দেখা হয়ে যায়। আমি কি করব বুঝে উঠতে না পেরে সেই বৃদ্ধকে সবকথা খুলে বলি।


বৃদ্ধ আমার বিপদ বুঝতে পারেন ও বলেন, " ও ভাঙ খেয়ে এসেছে। তাই এত খেতে পারছে। ওর খাওয়া এখনই থামানো দরকার। নয়ত ও খেয়েই যাবে যতক্ষণ না ও খেতে খেতে শুয়ে পড়ছে। আর কত টাকার যে ও খাবে তার ঠিক নেই। "


আমি কাতর ভাবে বলি,  " কি করে ওর খাওয়া থামাবো বলুন।"


বৃদ্ধ বলেন, " আচ্ছা আমি দেখছি। ওই পাণ্ডার নাম কি?"


আমি বৃদ্ধকে পাণ্ডাজির নাম জানাই ও ওনাকে নিয়ে দোকানে ঢুকি।


দোকানে ঢুকে দেখি যে রামদর্শনজিকে পঞ্চম বার পুরী সব্জী ও দ্বিতীয় বার রাবড়ি পরিবেশন করা হয়ে গেছে ও রামদর্শনজির মুখও সমান তালে চলছে।


দোকানে ঢুকেই সেই বৃদ্ধ রামদর্শন জিকে নাম ধরে ডেকে ব্রজভাষায় প্রচণ্ড ধমক দেন এবং আরো খেলে সে পেট ফেটে মরে যেতে পারে সেটা বুঝিয়ে বলেন। 


সেই ধমক খেয়ে রামদর্শন জি খানিকটা যেন অনিচ্ছা সহকারেই নিজের খাওয়া সংবরণ করেন।  পাতে যা পড়েছিল তা শেষ করে উঠে পড়েন। 


আমার কাছ থেকে এক টাকা ভোজন দক্ষিণা আদায় করে ও " আপ লোগো কা কল্যাণ হো যজমান " বলে, সেই বৃদ্ধের সাথে দোকান থেকে বেরিয়ে যান।


আমার মনে হল যে আমার বিপদ দেখে স্বয়ং দ্বারকাধীশ এসেছিলেন বৃদ্ধের বেশে আমাকে বিপদমুক্ত করতে।


তারপর দাম দিতে গিয়ে সব হিসাব পত্র করে দেখা গেল যে রামদর্শনজি সাইত্রিশ টাকার খাবার ভস্ম করে দিয়েছেন। 


তাজমহলের জন্য নয়, আমার প্রথম আগ্রা ভ্রমণ স্মরণীয় হয়ে আছে ওই রামদর্শন পাণ্ডাজির জন্যে যিনি কিছুক্ষণের জন্যে আমাকে চোখে আঁধার দর্শন করিয়ে ছিলেন।


সমাপ্ত


বীভৎস রসের গল্প - কবরখেকো

 (যারা সাহিত্য চর্চা করেন তারা জানেন যে বীভৎস রসও সাহিত্যের অন্যতম রস। কিন্তু আজকাল বীভৎস রসের গল্প প্রায় চোখেই পড়েনা। যা দুচারটে লেখা হয় তা নিতান্তই এলে বেলে লেখা।  


এই ধরণের গল্পের পাঠক সংখ্যা বরাবরই কম। বিশেষ করে মহিলা মহল এই ধরণের গল্প পছন্দ করেন না। 


আমি এই পোস্টে বীভৎস রসের একটি গল্প আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম। গল্পটি পেয়েছি বন্ধুবর দেবাশীষ কমলকৃষ্ণ গোস্বামী র গ্রুপ  " ওরা আসছে " থেকে। 


গল্পটির লেখক হলেন  বাংলাদেশের মহম্মদ পারভেজ মুন্না। 


যারা গল্পটি পড়বেন ভাবছেন তাদের অন্তত কিছুটা স্নায়ুর জোর থাকতে হবে ও ঘেন্না ঘেন্না ভাব থাকলে চলবে না। 


এই গল্পটি নিঃসন্দেহে আমার এখন অব্দি পড়া শ্রেষ্ঠ বাংলা বীভৎস রসের গল্প) 


কবর খেকো


লেখকঃ মহম্মদ পারভেজ মুন্না 


মোটর বাইকটা ঘ্যাচ করে থানার সামনে এসে ব্রেক করে সাব ইনেসপেক্টর রফিক। বিরক্ত মুখে বাইকের চাবি হাতে নিয়ে থানার মধ্যে ঢোকে। দুই রুমের এই একতলা দালানের সামনের রুমে রফিক, এক হাবিলদার আর তিন সেপাই এর বসার জায়গা। রুমের এক পাশে মোটা গরাদ দিয়ে আসামীদের রাখার বাবস্থা করা হয়েছে। আর পিছনের ছোট্ট তালা বন্ধ রুমে হচ্ছে থানার অস্ত্রাগার। 


মেজাজটা সকাল থেকেই খিঁচড়ে আছে রফিকের। শালার এই অজ গন্ডগ্রামে বদলি হবার পর থেকেই যখনই থানায় ঢোকে তখনই এমন হয়। এখানে না আছে কোনো উপরির সুযোগ, না আছে উন্নতির আশা। কিন্তু কি আর করা। সদ্য পুলিশের চাকরিতে ঢুকেছে ও। প্রথম দিকে বড় কর্তারা এমন ফালতু জায়গায়ই পোস্টিং দেবে। তবুও মেজাজটা প্রায়ই খারাপ থাকে রফিকের। এই চাকরিতে ও ঢুকেছেই মাল কামানের আশায়। কিন্তু এই প্রতাপপুরের মত ছোট্ট থানায় সে সুযোগ নেই বললেই চলে।


মাথার ক্যাপটা খুলে হতাশ ভঙ্গিতে নিজের ডেস্কের পিছনের চেয়ারে বসে রফিক। কোমরের বেল্টটা একটু ঢিলা করে গলা ছেড়ে ডাক দেয় হাবিলদার নজরুলকে। ব্যাটা নিশ্চই থানার পিছনে বসে বিড়ি টানছে। সেপাই তিন জন আছে টহলে। চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করেই আবার ডাক দেয় রফিক


" আই নজরুল, কোথায় তুমি? "


বাইরে দ্রুত বুটের শব্দ শোনা যায়। চোখ খুলে সামনে এটেনশন রত অবস্থায় নিজের হাবিলদারকে দেখতে পায় রফিক।


" কী এতক্ষন কোন চুলায় ছিলা? "


" আর কইয়েন না স্যার, এক হালারে আইজ বাইন্দা আনছি। হালায় বড়ই আজিব কিসিমের। "


"তা তার অপরাধটা কী? মুরগী চুরি না বদনা চুরি? তোমাগো এই চুতিয়া জায়গায় এর চেয়ে আর কী বেশি অপরাধ হবে। শালার চাকরি!"

 

নিজের মনের ক্ষোভটা ঢাকতে পারেনা রফিক।

মাল আমদানি হয় এমন অন্য কোনো থানায় পোস্টিং পেলে এতদিনে বেশ কিছু মালপানি জমাতে পারতো। কিন্তু এই ঠাডা পড়া থানায় না আসে কোনো বড় কেস, আর তাই মাল আমদানির না আসে কোনো সুযোগ। যদি ধারে কাছে বর্ডার থাকতো তাহলেও না হয় কিছু চোরা চালানি ধরে মাল কামানো যেত। কিন্তু সে আশায় গুড়ে গু। এই ক্ষয়রাতি গ্রামের লোকেদের না আছে কোনো টাকা পয়সা, আর না আছে কোনো বড় অপরাধ করার ইচ্ছা। শালারা সব ম্যান্দামারা পাবলিক।


" না স্যার তা না, এই হালায় চুরি মুরি করে না। তয় গ্রামের মানুষ গুলারে জ্বালাইয়া খাইতাছে। "


" মানে কী? কী করে শালায়? 


হাবিলদার নজরুল নিজের শুকনো কোমর থেকে

ঢলঢলে প্রায় নেমে যাওয়া প্যান্টটা এক হাতে টেনে ধরে, মাথাটা কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ফিসফিস করে বলে-


" হালায় স্যার কব্বরের মাডি খায়। "


" কবরের মাটি খায় মানে? কোন পাগল ছাগল ধরে এনেছো? "


বিরক্ত ভাব চরমে ওঠে রফিকের।


" না স্যার, সত্যি কতা, হালায় নুতন কব্বর পাইলেই হ্যার মাডি গুলা খামচাইয়া  খামচাইয়ে খায়। কব্বর দিয়া সবে চইল্লা গেলেই হালায় আইয়া জোডে। মাডি মুডি খাইয়া কব্বরের বাঁশ, মাশ কলাপাতা সব বাইর কইরা ফ্যালে। হালারে এত ধাবরাইছে গেরামের সবে মিল্লা হ্যা কইয়েন না। কিন্তুক হালায় জানি কোন হানে পলাইয়া থাহে। আইজ হালারে দেহি থানার সামনে উক্কি ঝুক্কি মারতে আছে। আর কী আশ্চাইর্য স্যার!! যে বাড়ি মানুষ মরবে হেই বাড়ির আইশ পাশে মানু মরার দুই এক দিন আগে থাকতেই পলাইয়া পলাইয়া ঘোরতে থাহে। এ এক আচানক ব্যাপার স্যার। বড়ই আচানক। হালায় ট্যার পায় ক্যামনে আল্লা মাবুদ জানে। "


এতক্ষন ধৈর্য ধরে হাবিলদারের প্যাচাল শুনছিল রফিক। কিন্তু এবার আর ধমক না দিয়ে পারে না।


" কী সব ঘোড়ার ডিম বলতেছো? কই চল দেখি কোথায় তোমার সেই কব্বরের মাটি খাওয়া পাগল। "


রফিকের ধমকে কিছুটা মিয়িয়ে যায় হাবিলদার নজরুল। মনে করেছিল এই কাহিনী বলে স্যারের বাহবা পাবে, এমন এক আসামি ধরার জন্য মাথা নিচু করে মিনমিন করে বলে-


" হালারে থানার পিছনে আমনের কোয়াটারের

সামনে আম গাছটার লগে বাইন্ধা থুইছি।"


" তাতে আমার চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করছো। কেন শালারে গরাদে ঢুকাও নাই কেন?


মাথা চুলকে নজরুল বলে-


" কেমুন জানি ভয় লাগতেছিল স্যার। হের লাইগা থানায় ঢুকাইন্যার সাহস পাই নাই।"


" আচ্ছা চল দেখি কোথায় তোমার কবরখেকো পাবলিক।" 


নিজের হাবিলদারকে নিয়ে থানার পিছন দিকে তার থাকার কোয়াটারের দিকে যায় রফিক। ওর ছোট্ট টিনশেড কোয়াটারের ঠিক সামনে এক বিশাল আম গাছ। সেটার সাথেই পিছনে হাত বাঁধা এক যুবককে দেখতে পায় ও। পরনে শুধু ময়লা লুঙ্গি। খালি গা। আর সে গায়ের রঙ কুচকুচে কালো। মাথায় মাটি, ধুলো মাখা লালচে একরাশ বাবরী চুল। মাথাটা নিচু করা। মনে হয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঘুমাচ্ছে। পরনের লুঙ্গি প্রায় খুলে যায় যায় অবস্থা। 


প্রচণ্ড ভাবে ধমকে ওঠে হাবিলদার নজরুল-


" ঐ বান্দর লুঙ্গি বান ঠিক মত, স্যারে খাড়াইয়া রইছে সামনে দ্যাহোছ না।"


আস্তে করে নজরুলের দিকে তাকায় রফিক।


" মাথায় যেটুকু বুদ্ধি ছিল তা কি বেচে দিয়েছো বিড়ি খাবার টাকার আশায়? আহাম্মক, ওর হাতের বাঁধন খোল। হাত বাঁধা অবস্থা লুঙ্গি ঠিক কবে কেমনে ও।"


" ও হ স্যার ঠিকই কইছেন "


দৌড়ে গিয়ে যুবকের হাতের বাঁধন খুলে দেয় নজরুল। সাথে সাথে ধপাস করে জায়গাতেই বসে পড়ে যুবকটি। এবার মাথা তুলে ধীরে ধীরে তাকায় রফিকের দিকে। তার ঈষৎ লালচে চোখের দিকে তাকিয়ে রফিক ভাবে " আরে এতো বলতে গেলে এক কিশোর।" শুধু গায় পায়ে একটু বড়। তবে প্রচণ্ড শুকনো। পাঁজরের হাড়গুলো প্রায় গোনা যায়। চোখে কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টি। হঠাৎ কেমন যেন মায়া হয় ছেলেটার উপর রফিকের। ব্যাটা কয়দিন খেতে পায়নি কে জানে! দেখেই বোঝা যাচ্ছে এ পুরা পাগল। গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে খাবার না পেয়ে হয়তো ক্ষুধার জ্বালায় মাটি, কাঁচা গাছ পালা এসব খাচ্ছে আর তাই নিয়ে গ্রামে এত হইচই।


ছেলেটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রফিক। রফিককে কাছে আসতে দেখেই আবার ছেলেটা মাথা নিচু করে 


" কিরে তোর নাম কী?" 


মাথা নিচু করেই উত্তর দেয় ছেলেটা-


" ইয়াদ নাই। "


"থাকো কোথায়?"


" ইয়াদ নাই"


" বাপ মা আছে? "


" ইয়াদ নাই। "


" তোর সবই ইয়াদ নাই। তা এই গ্রামে আছো কয়দিন? "


মাথা নিচু করে হাসে ছেলেটা, কিন্তু কোনো উত্তর দেয় না।হাবিলদারের দিকে ফেরে রফিক -


"ওরে কোয়াটারের বারান্দায় নিয়ে এসো"


ছেলেটার হাত ধরে একটানে দাঁড় করিয়ে প্রায় টানতে টানতে কোয়াটারের বারান্দায় এনে মেঝেতে বসায় হাবিলদার নজরুল। ছেলেটা এরই ফাঁকে কোনো মতে লুঙ্গিতে ভালোমত গিঁট দিয়ে নেয়। রফিক এসে বারান্দায় রাখা ওর আরাম কেদারাটায় বসে। ছেলেটার নিচু মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে-


" কিরে তুই নাকি কবরে মাটি খাস? আবার মানুষ মরার আগে তার বাড়ির কাছে ঘুরতে থাকস? ঘটনা কী? ঠিক মত জবাব দে। নইলে টানাইয়া পিটামূ। পুলিশ কী জিনিস তা জানস?"


মাথাটা নিচুই থাকে। কোনো উত্তরও আসে না।

হাবিলদার নজরুলের আর ধৈর্য হয় না। 


"স্যার  হালারে আগে কতক্ষুন পিডাইয়া লই, হ্যার পর জিগামু আনি যা জিগানের। কী কন?"


" চোপ, কোনো কথা বলবা না। "


রফিকের ধমকে আবারো মিয়িয়ে যায় নজরুল।


" না স্যার মানে কইছিলাম... "


"আবার  কথা বলো, একদম চুপ।"


কিছুক্ষন ছেলেটার দিকে চেয়ে ভাবতে থাকে রফিক। তারপর বলে-


" এই তুই কাজ করবি এখানে? আমার কোয়াটারে  থাকবি, ঝারু মারু দিবি, পয় পরিস্কার করবি, কি ঠিক আছে?"


এবার মাথা তুলে নিজের নোঙরা মাটি মাখা দাঁতগুলো বের করে হাসে ছেলেটা। কোনো কথা বলে না। তবে হাসিতে সম্মতির লক্ষণ। ওর হালকা লাল ঠোঁটের ফাঁকে কালো মাটি মাখা দাঁত গুলো দেখে কিছুটা চমকে যায় রফিক। অসস্তি কাটানোর জন্য নজরুলকে বলে-


" ওকে কিছু খেতে দাও।"


নজরুল আর সহ্য করতে পারে না। ওর ধারণা ছিল স্যারে আগে একলাছা মাইর দিতে বলবে, বহুদিন আউশ মত কাউরে মাইর দেয়া হয় নাই। এই চান্সে হাতের চুলকানি কিছুটা কমবে। তা না স্যারে হালারে জামাই আদর করতাছে।


"স্যার খাওন দেয়ার আগে এট্টু মাইর দিয়ে লইলে ভালো হইতে না?


ঠাণ্ডা চোখে নিজের হাবিলদারের দিকে তাকায় রফিক-


"আর একটা কথা বললে মাইর তোমার পিছন দিক দিয়ে ঢুকাইয়া দেব। এক মাস "মলত্যাগ" বাদ দিয়া বিছনায় উপুর হুয়ে শুয়ে থাকবে। বুঝছো আমার কথা? এখন যাও দেখো ঘরে খাবার কি পাওয়া যায়, সেগুলো এনে দাও ওকে।


মলিন মুখে কোয়াটারের ভিতরে যায় নজরুল।

মাথা নিচু ছেলেটাকে আবার প্রশ্ন করে রফিক-


" আচ্ছা তুই মানুষ মরার আগেই বুঝছ কেমনে যে ঐ বাড়িতেই মানুষ মরবে? তুই নিজেই কি মারো নাকি বিষ টিষ খাইয়ে? "


এবার সরাসরি রফিকের চোখে তার লাল ঘোলাটে চোখ রাখে ছেলেটা।


" না সাব, আমি ঘেরান পাই, আহারে কি সুন্দার ঘেরান। যে বাড়ী মানু মরবে হেই বাড়ীর থনে ঘেরান বাইর হয়, আর কব্বরে লাশ রাখনের পর ঘেরানে আমি পাগল হইয়া যাই। কী স্বাদ কব্বরে মাডির। কী মজা লাগে হেই মাডি খাইতে।"


নিজের স্পাইনাল কর্ডে এক ঠাণ্ডা শীতল অনুভুতি টের পায় রফিক। কী যেন একটা অস্বাভাবিক কিছু আছে ছেলেটার চোখে আর কণ্ঠস্বরে। বুকের মধ্যের অসস্তিটা আবার ফিরে আসে। ভাবে, "না এই শালাকে রাখা যাবে না। বিনা পয়সার চাকরের দরকার নেই। দ্রুত বিদায় করতে হবে।" এমন সময় হাবিলদার নজরুল এক বাটি মুড়ি আর আরেক বাটিতে খান কয়েক গরম জিলাপি নিয়ে এসে ছেলেটার সামনে ফ্যালে।


"নে খা হারামজাদা, প্যাট ভইরা খা"


মাইর দিতে না পারায় তার মনে গভীর "দু:খ"।

কিন্তু বাটিগুলোর দিকে ফিরেও তাকায় না ছেলেটা।এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে রফিকের দিকে। 

সে দৃষ্টি ঘোর লাগা দৃষ্টি, সে দৃষ্টি শীতল দৃষ্টি।

সে দৃষ্টিতে বুকের গভীরে আতঙ্ক টের পায় রফিক। ধমকে ওঠে-


"কী খাচ্ছিস না কেন?  খা তারাতারি।"


কিন্তু কোনো কথা না বলে মুচকি হাসে ছেলেটা। দৃষ্টি থমকে থাকে রফিকের উপরই। যেন কোনো ক্ষুদার্থ কুকুর চেয়ে আছে কাঁচা মাংসের দিকে।


আর সহ্য হয় না সাব ইনেসপেক্টর রফিকের। হাবিলদার নজরুল কে আদেশ দিয়ে বলে-


" এই হারামজাদাকে এখনই কয়েকটা চড় থাপ্পর দিয়ে থানা কম্পাউন্ডের বাইরে অনেক দূরে ফেলে দিয়ে আস। আর এই সব আউল ফাউল ঝামেলা যেন আর থানায় আনতে না দেখি।"


এতক্ষনে মনের মত কাজ পেয়ে অতি উৎসাহে ছেলেটার ঘাড় ধরে টেনে হিচড়ে, পাছায় গোটা কয়েক লাথি মেরে নিয়ে যেতে থাকে নজরুল।


পকেট থেকে রুমাল বের করে মাথার বিন্দু বিন্দু ঘাম মোছে রফিক। কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল ও।

নার্ভাস ভঙ্গিতে একটু হাসে। শালা!! কত রকমের পাবিলিকই যে আছে দুনিয়ায়। বুকের আতঙ্কটা চাপা দিতে চায় একটা সিগারেট ধরিয়ে।


এদিকে হাবিলদার নজরুল থানা থেকে বেশ কিছুটা দূরে এসে এক খালের পারে এনে ছেলেটাকে শেষ এক লাথি মেরে ফেলে দেয় খালে। নিজের কাজে সে যথেষ্ট সন্তষ্ট। 


যদি নজরুল লাথি, কিল, ঘুষি মারার উত্তেজনায় না থাকতো তবে শুনতে পেত পুরোটা পথ ছেলেটা বিড়বিড় করে শুধু একটা কথাই বলেছে-


"আহারে কী সুন্দার ঘেরান, সাবের শরিল দিয়া কী সুন্দার ঘেরান। আহারে কী সোয়াদ।"


রাত দশটার একটু বেশি হবে। গ্রাম্য অঞ্চলে দশটাই অনেক রাত। গ্রামের মূল কাঁচা রাস্তা ধরে বাইক চালিয়ে কিমি দশেক দূরের উপজেলা শহরের দিকে যাচ্ছে রফিক। আজ উপজেলার এক মেম্বার দাওয়াত দিয়েছে একটু ফুর্তি ফার্তার। ভুরিভোজ ডিনারের পর হালকা বিদেশী লাল পানির ব্যাবস্থা আছে। আছে একটু নারী মাংসেরও ব্যাবস্থা। আশেপাশের থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত সাব ইনেসপেক্টরদের খুশী রাখতে মাঝে মাঝে এই রকম একটু ফুর্তির ব্যাবস্থা করতেই হয় স্থানীয় মেম্বারদের। এতে তাদের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান খুব আছানেই হয়ে যায়। সারাদিন বসে বসে মাছি মারা চাকরী এর পর এখন মনটা হালকা মেজাজেই আছে রফিকের আসন্ন "ফুর্তির" কথা ভেবে। বাইকের স্পিড নিজের অজান্তেই বাড়িয়ে দেয় ও। গ্রামের কাঁচা রাস্তা গিয়ে মিশেছে উপজেলার দিকে যাওয়া পিচের রাস্তার সাথে। রাস্তার বাঁক ঘুরে শুনশান পিচের রাস্তায় উঠেই বাইকে প্রচণ্ড গতি তোলে রফিক। ঠিক তখনই কালো পিচের রাস্তার একদম মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কবরখেকো ছেলেটাকে। বাইকের হেড লাইটের উজ্জল আলোয় কালো কুচকুচে দেহ এবং ময়লা দাঁতগুলো যেন রফিকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। শরীরের দু'পাশে দু’হাত লম্বা করে দাঁত বের করে হাসছে কবরখেকো। যেন এখনই জড়িয়ে ধরবে রফিককে। বাইকের সাথে ধাক্কা লাগলো বলে। ভয়ংকর দেহটাকে কোনোমতে এড়াতে চায় রফিক। কিন্তু এত গতিতে চলা বাইকে বসে তা আর হয়ে ওঠে না। তাল হারিয়ে প্রচণ্ড বেগে বাইক নিয়ে আছড়ে পড়ে রফিক রাস্তার পাশের এক বিশাল গাছের উপর। মুহূর্তেই মোটর বাইক আর রফিকের মাংসল দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। এক ঝলক লাল রক্ত ছিটকে পড়ে রাস্তায় আর পাশের সবুজ ঘাসে। বাইকের ইঞ্জিন বন্ধ হতেই নিঃস্তব্ধতা নেমে আসে নির্জন রাস্তায়। ব্যাটারির কারণে জ্বলতে থাকা হেড লাইটের আলোয় জীবনের শেষ মুহূর্তে রফিক দেখতে পায় এক কালো কুচকুচে মুখমণ্ডল। যাকে ঘিরে রেখেছে বাবরি চুলের গোছা। রফিকের কানে ভেসে আছে সেই মুখের ময়লা মাটি মাখানো দাঁতের ফাঁক দিয়ে বের হওয়া শব্দগুলো


"আহারে কী সুন্দার ঘেরান। কী সুন্দার সোয়াদ।"


তারপরই চিরকালের জন্য সব অন্ধকার।


গ্রামের এক কোনে প্রাচীন কবরস্থানে সদ্য খোঁড়া কবরে সাব ইনেসপেক্টর রফিকের প্রায় ভর্তা হয়ে যাওয়া লাশ রাখতে রাখতে হাবিলদার নজরুল কাঁদতে থাকে। ভাবে,


 "স্যারে শ্যাষ কালে এইভাবে মরলে। ওনার কবরও হইলো কিনা এই গেরামে। কপালের লিখন খণ্ডায় কেডা?"


কবর দেয়া শেষ হতেই গ্রামের এক মুসুল্লি যে জানাজা দিয়ে রফিকের লাশ দাফন দিয়েছে এবং নজরুল সহ আর দু-চার জন যারা এসেছিল তারা ধীরে ধীরে চলে যায়। থাকে শুধু স্তব্ধ নীরবতা।


গভীর ঘনঘোর কালো রাত। প্রাচীন কবরস্থানের গাঢ় ঝোপঝাড়গুলোয় যেন অন্ধকার জমাট বেঁধে রয়েছে। রাত জাগা শেয়ালের দল কবরস্থানের আশেপাশে ঘুর ঘুর করছে আর আকাশের তারার দিকে চেয়ে করুন সুরে "হু হু" করে ডাকছে পুরোনো কবরগুলোর ফাঁক ফোকোর দিয়ে যদি দ-ুএকটা হাড় বের করে এনে চিবুনো যায় তার আশায়। কিন্তু আজ ওরা কবরস্থানের মধ্যে ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না। কী যেন এক অশুভ কিছুর ভয়ে! রাতের বাতাসও যেন স্থির হয়ে আছে। সমস্ত পরিবেশে কিসের যেন জল্পনা কল্পনা। হঠাৎ এক ঝোপের মধ্য থেকে উলটো হয়ে চার হাত পায়ে কিছু একটা দ্রুত ছুটে যায় রফিকের কবরের কাছে। কবরের মাথার কাছে এসে বসে শীর্ণ দুহাতের তীক্ষ্ণ নখগুলো দিয়ে খাবলিয়ে খাবলিয়ে মাটি খেতে থাকে গোগ্রাসে। কয়েক লহমাতেই কবরের মাথার দিকের প্রায় সব মাটি খেয়ে ফেলে সে। এবার দু'হাতে টান দিয়ে কবরের বাঁশ চাটাই সব তুলে ফেলে। কাফনে জড়ানো রফিকের মাথার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড। তারপর আস্তে করে কাফন সরিয়ে রফিকের লাশের মাথা উন্মুক্ত করে এক ভারী ইট দিয়ে বাড়ী দিয়ে ভাঙ্গতে থাকে মাথার খুলি। দু-একটা প্রচন্ড বাড়ীতে ফাটিয়ে ফেলে খুলিটা। জান্তব এক আওয়াজ করে এবার খুলির হাড়গুলো নিয়ে মহানন্দে চুষতে থাকে। পুরো খুলির উপরিভাগ উন্মুক্ত হতেই দু'হাতে গপগপ করে খেতে থাকে রফিকের তাজা মগজ। তৃপ্তির সাথে শেষ করে খাওয়া। তারপর আশেপাশের মাটি দিয়ে আবার ঢেকে দেয় কবরটা। মুখ তুলে অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে সুর তোলে গলায় "হু হু"। ঠিক শেয়ালগুলোর মত! এই গ্রামের মানুষরা জানে না যাকে তারা কবর খেকো বলে সে আসলে মগজ খেকো। সে আসলে অন্য কিছু। মৃত্যুর গন্ধ পায় সে। তাই ঘোরাফেরা করে যে মানুষ মরবে তার আশেপশে।


আকাশের দিকে চেয়ে ডাক শেষ হতেই আবার চার হাত পায়ে ফিরে চলে সে। মুখে অস্পষ্ট ফিসফিসানি-


"আহারে কী সুন্দার ঘেরান, আহারে কী সুন্দার সোয়াদ।"


Monday, March 8, 2021

Wishing you all on International Women's Day

 Wishing everyone on International Women's Day.


Like every day today also I bow my head on the lotus feet of Bharat Mata, Ma Durga and all the women of the world and seek their blessings. 


Namo Nari Shaktibhya Namo 

Namo Naribhya Namo.