Saturday, January 16, 2021

সিকন্দর - অল - সানি

 সিকন্দর - অল - সানি 


(৯)


যেদিন সুলতান জালাল উদ্দীন ফিরোজ খিলজি কে হত্যা করা হয় সেদিন তারিখ ছিল ১৯ জুলাই ১২৯৬। আর তাঁর হত্যাকারীর নাম ছিল মোহম্মদ সেলিম। 

 

সমস্ত মৃতদেহগুলি তৎক্ষনাৎ গঙ্গায় জলসমাধি দেওয়া হয়। শুধু সুলতানের ছিন্ন মুণ্ড একটা বর্শার ফলকে গাঁথা হয় ও তারপর তা কড়া ও আওয়াধের সড়কে ঘোরানো হয়।


আলি গুর্শাস্প সেদিনই নিজেকে নতুন সুলতান হিসাবে ঘোষণা করেন। 


এই তারিখের ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মধ্যে দ্বিমত আছে।


আমির খুসরো লিখেছেন যে এই দুটি ঘটনা ঘটেছিল ১৯ জুলাই ১২৯৬ এ।  আবার ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারণী র মতে ঘটনা দুটি ঘটেছিল ২০ জুলাই ১২৯৬। 


ঐতিহাসিক এ বি এম হাবিবুল্লার মতে 

অবশ্য আমির খুসরো লিখিত তারিখটিই ঠিক।


 হাতির পিঠে বসে কড়ার সড়কে মুঠো মুঠো স্বর্ণ মুদ্রা ছড়ান তিনি সাধারন নাগরিকদের মাঝে। যে সমস্ত আমিররা তাকে সমর্থন জানালেন তাদের পদোন্নতি করে উপাধি দিলেন মালিক। আর নিজের অন্যান্য সমর্থকদের উপাধি দিলেন আমির।


 সব কিছু গুছিয়ে দিল্লির দিকে যাত্রা করতে তার কিছু বিলম্ব হল। এর মধ্যে তিনি ছলে বলে কৌশলে বিরোধী পক্ষের আমিরদেরও নিজের পক্ষে করে নিলেন। 


এদের মধ্যে প্রমুখ হলেন - তাজুল মুলক কুচি, মালিক আবাজি আখুর বেক, মালিক আমির আলি দিওয়ানা, মালিক উসমান আমির আখুর, মালিক আমির খান প্রভৃতি। 


এদের প্রত্যেককে ৫০ মন করে সোনা উপহার দেওয়া হল। এই আমিরদের সাথে যে সব সৈনিকরা এল তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হল ৩০০ রূপোর টাকা। 


এইভাবে দরাজ হাতে ধন রত্ন বিলির ফলে তার জন সমর্থন ও সৈন্যবল দুই ই দ্রুতগতিতে বাড়তে লাগল। 


তবে সে সময় বর্ষাকাল হওয়ার দরুন গঙ্গা ও যমুনা নদীতে জল বেড়ে গিয়ে বন্যা হবার ফলে তিনি দ্রুত গতিতে দিল্লির দিকে অগ্রসর হতে পারলেন না। 


(১০)


এদিকে সুলতান জালালউদ্দিনের হত্যার খবর দিল্লিতে পৌঁছালে সুলতানের বেগম, নিজের কনিষ্ঠ পুত্র কাদর খানকে তড়িঘড়ি দিল্লির তখতে বসালেন " সুলতান রুকনুদ্দিন ইব্রাহিম " নাম দিয়ে।


 বেগম সাহেবা এই ব্যাপারে দিল্লিস্থিত আমিরদের সাথে কোন রকম শলা পরামর্শ করলেন না। এমনকি নিজের জ্যেষ্ঠপুত্র, মুলতানের সুবেদার, আরকালি খানকেও কিছু জানালেন না।


এর ফল হল এই যে সুলতান জালালউদ্দিনের বিশ্বস্ত আমিররা ও আরকালি খান মনে মনে খুব চটে গেলেন।


 ১২৯৬ সালের দ্বিতীয় সপ্তাহে আলাউদ্দিন দিল্লি র দিকে যাত্রা শুরু করলেন। পথে যেতে যেতে তার সৈন্যসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেল। দিল্লির কাছাকাছি পৌঁছাতেই সুলতান রুকনুদ্দি ইব্রাহিম তাকে সসৈন্যে বাধা দিতে এলেন। 


কিন্তু এর ফল রুকনুদ্দিনের পক্ষে ভাল হলনা। রণক্ষেত্রে পৌঁছান মাত্র রুকনুদ্দিনের বেশির ভাগ সৈনিক আলাউদ্দিনের পক্ষে যোগ দিল। 

রুকনুদ্দিনের অল্প কিছু সৈন্য ঝড়ের মুখে কুটোর মত উড়ে গেল। 


রুকনুদ্দিন নিজের মাকে নিয়ে পালালেন মুলতানের দিকে, নিজের অগ্রজ আরকালি খাঁয়ের আশ্রয়ে। 


দিল্লির অন্যান্য আমির ওমরাহেরা এসে যোগ করা দিলেন আলাউদ্দিনের পক্ষে। কেননা ঘটনার গতি প্রকৃতি দেখে তারা বুঝে গেছিলেন যে দিল্লিতে এবার আলাউদ্দিন যুগ এসে গেছে।


 রুকনুদ্দিন ইব্রাহিম, আরকালি খান ও তাদের মা অবশ্য বেশিদিন পালিয়ে থাকতে পারেন নি। তাদের বন্দী করে কারাগার নিক্ষেপ করা হয়েছিল।


২১ অক্টোবর ১২৯৬ সাল। আলাউদ্দিনের তাজপোষি হল। আল্লাহর পবিত্র নাম স্মরণ করে দিল্লির শাহি তখতে বসলেন তিনি। তার নতুন নাম হল - আলাউদ্দুনয়া ওয়াদ দীন মহম্মদ শাহ  উস সুলতান। 


(১১)


যেদিন তাজপোষি হল, সেদিন সন্ধ্যায় মখমলের থলি ভর্তি হীরে জহরত মণি মুক্তো নিয়ে হারেমে গেলেন আলাউদ্দিন, নিজের সেই প্রথম বেগম সাহেবার সাথে দেখা করতে। 


কুর্ণিশ করে বললেন, " বেগম সাহেবা, আপনি একজন সাধারণ সুবেদারের সুবেদারনি হয়ে কড়ায় যেতে চাননি। আর আমাকে বলেছিলেন দিল্লিতে থাকতে। তাই আপনার কথা শুনে আজ আমি দিল্লিতে চলে এসেছি। আর আমি বলেছিলাম যে একদিন আপনার মহল হীরে মোতি দিয়ে ভরে দেব.. "


এই বলে বেগম সাহেবার পায়ের কাছে হাতের মখমলের থলি উপুড় করে দেন আলাউদ্দিন। 


"... আর হ্যাঁ, আজ থেকে আপনি আর একজন সাধারণ সুবেদারের সুবেদারনি নন। আজ থেকে আপনি মলিকা - ই - জাঁহা কেননা আজ থেকে আমি সুলতান - ই - হিন্দুস্তান। "


রাগে দুঃখে অসহায়তায়  কেঁদে ফেলেন বেগম সাহেবা। 


কাঁদতে কাঁদতে বলেন, " তুমি.. তুমি বেইমান। তুমি আমার আব্বা হুজুরকে হত্যা করেছ এই তখতের জন্য। উনি তো তোমারও আব্বার মত ছিলেন। জানিনা আল্লাহতালার এ কেমন মর্জি।  তোমার কিসমত এখন বুলন্দিতে। কিন্তু আমি তোমাকে বদ দুয়া দিচ্ছি যে এখন শাহি তখতে বসলেও কোন দিন তুমি সিকন্দর শাহের মত হতে পারবে না। আর এই গুস্তাখির শাস্তি একদিন আল্লাহতালা তোমাকে জরুর দেবেন।


 বেগম সাহেবার কথায় আলাউদ্দিন রাগ করেন না। বেগম সাহেবার চোখের জল মুছিয়ে দিতে দিতে মৃদু কণ্ঠে বলেন, " সেদিনও আপনি আমার কথায় এতবার না করে ভুল করেছিলেন। আজও আমার কথায় এতবার করছেন না। অন্যের কাছে আমি যাই হইনা কেন, যেমনই হই না কেন, আপনার কাছে কিন্তু আমি আপনার সেই শৌহর, আলি গুর্শাস্প। 


আপনার সেদিনের এক ফটকার (ধমক)  আমাকে সাধারণ সুবেদার থেকে সুলতান - ই - হিন্দুস্তান করে দিয়েছে। আর আপনার আজকের ফটকারও আমাকে সুলতান - ই - হিন্দুস্তান থেকে সিকন্দর শাহের বরাবর করে দেবে। "


নিকাহের এত বছর পর এই প্রথম বেগম সাহেবার সাহচর্য্যে হারেমে রাত কাটালেন আলাউদ্দিন।


(১২)


তখতে বসে আলাউদ্দিন মন দিলেন সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে। সমস্ত সেনানী ও সৈনিকদের বেতন বৃদ্ধি করলেন। 


সাধারণ পদাতিক সৈনিকের বেতন ধার্য্য হল বাৎসরিক ১৫৬ তঙ্কা (রূপোর টাকা), এক অশ্ব সমেত অশ্বারোহীর বেতন ছিল ২৩৪ তঙ্কা আর দুই অশ্ব সমেত অশ্বারোহীর বেতন ছিল ৩১২ তঙ্কা। যুদ্ধে জয়লাভ করলে পারিতোষিক প্রদানের ব্যবস্থা করলেন। 


সব সেনানী ও সৈনিকদের দেড় বছরের বেতন অগ্রিম দিলেন ও তাদের  বিশেষ সামরিক শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন। 


বুদ্ধিমান আলাউদ্দিন বুঝেছিলেন যে দীর্ঘ সময় সুলতানি করতে হলে উন্নত মানের সেনাবাহিনী প্রয়োজন। আর তা রাখতে হবে নিজের অধীনে। 


তার সময় রাজধানী দিল্লিতে প্রায় সাড়ে চার লাখ সৈনিক ও অশ্বারোহী সব সময় মজুদ থাকত। 


উল্ল্যেখযোগ্য এই যে সৈনিকদের এতো বেতন কিন্তু এর কয়েকশ বছর পর সম্রাট আকবরও দিতেন না।


 এছাড়াও শাসন ব্যবস্থার নানা ভাবে উন্নতি ঘটালেন। 


ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারণীর মতে (১২৮৫ - ১৩৫৭) আলাউদ্দিন সুলতান হবার পর অন্তত এক বছর এত ভাল সময় ছিল যা দিল্লির অধিবাসীরা আগে কখনো দেখেনি। 


আলাউদ্দিন নিজের নতুন রাজধানী তৈরি করলেন সিরিতে। দিল্লির একটি  রাজপথ সিরি ফোর্ট রোডের আশেপাশে এই রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ এখনও দৃষ্টিগোচর হয়।


দিল্লিতে গুছিয়ে বসে আলাউদ্দিন শুরু করলেন তার বিজয় অভিযান। 


চতুর আলাউদ্দিন দেখেছিলেন যে হিন্দু রাজাদের মধ্যে কোন একতা নেই। সবাই আত্মগর্বী, অহঙ্কারী। যে যত বড় রাজা তার তত বেশি অহঙ্কার। সাধারণ হিন্দুদের মধ্যেও একতা নেই। জাত পাতের বেড়াজালে তারা আবদ্ধ। 


যুদ্ধের পর যুদ্ধ হল হিন্দু রাজাদের সাথে। গুজরাট, মালওয়া, দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল, রণথোম্ভর, মহান চিতোড়...সবাই একে একে স্বাধীনতা বিসর্জন দিল আলাউদ্দিনের অশ্বারোহী বাহিনীর অশ্বক্ষুরের নীচে। 


এ ছাড়াও চার বার মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করলেন আলাউদ্দিন। এমন শিক্ষা দিলেন মঙ্গোলদের যে তারা এর পর আর হিন্দুস্তান আক্রমণ করার সাহস পায়নি। 


আলাউদ্দিনের সুলতান হবার কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা গেল যে সম্পূর্ণ হিন্দুস্তানে না হলেও, বেশির ভাগ যায়গাতেই - দ্বারসমুদ্র থেকে দিপালপুর ও গুজরাট থেকে বঙ্গ -  উড্ডীন হয়েছে ইসলামের অর্ধচন্দ্র শোভিত হরিৎ বর্ণের পরচম।


 দিল্লির সুলতান আজ সর্ব অর্থেই সুলতান - ই - হিন্দুস্তান।


 হিন্দুস্তানের সুলতান হবার পর তিনি উপাধি গ্রহণ করলেন - সিকন্দর - অল - সানি। 


পুরানো পার্শি ভাষায় 'সিকন্দর' শব্দটির অর্থ হল 'বিজেতা'। বহু দেশে জয় করার জন্য আলেকজান্ডার কে সিকন্দর বলা হত। আর, আরবি ভাষায় 'সানি'  শব্দ টির অর্থ হল প্রতিভাশালি।


পুরো শব্দটির অর্থ তাহলে দাঁড়ায় - প্রতিভাশালি বিজেতা।


ইতিহাস সাক্ষী যে তিনি এই উপাধির সম্পূর্ণ যোগ্য ছিলেন।


 সব শাসকদের মতো আলাউদ্দিন ও নিজের নামাঙ্কিত বিভিন্ন মূল্যমানের তাম্র রৌপ্য ও স্বর্ণ মুদ্রা জারি করেছিলেন। এর মধ্যে সব থেকে দামি মুদ্রা ছিল ১০.৭০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণমুদ্রা।


 স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই স্বর্ণমুদ্রায় সুলতান নিজের নাম ও উপাধিকে মুদ্রিত করে দিয়েছিলেন। 


এই স্বর্ণ মুদ্রার একদিকে মুদ্রিত ছিল - অল সুলতান অল আজম আলা আলদ্দুনিয়া ওয়া আল দিন আবুল মুজফফর মুহম্মদ শাহ অল সুলতান। 


ও অন্যদিকে মুদ্রিত ছিল - সিকন্দর - অল - সানি আমিন অল খিলাফা নাসির আমিরি  অল মুমিনিন।


সুলতান আলাউদ্দিনের জারি করা সব মুদ্রাই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রা জাদুঘরের সংগ্রহে আছে।


এই ভাবে বেগম সাহেবার দেওয়া সেই বদ দুয়া বা অভিশাপের প্রথম অংশ ব্যর্থ হয়েছিল। নিজের চতুরতা, সাহস, বাহুবল ও পুরুষাকারের দ্বারা আলাউদ্দিন দ্বিতীয় সিকন্দর শাহের মত হয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।


কিন্তু সময় বড় বলবান। ভিখারি হোক বা সুলতান, সময় সবার জীবন থেকেই নিজের পাওনা গণ্ডা কড়া ক্রান্তিতে বুঝে নেয়। 


সুলতান আলাউদ্দিনকেও জীবন সায়াহ্নে সময়কে তার পাওনা সুদ সমেত মিটিয়ে দিতে হয়েছিল। আর এইভাবেই হয়ত বেগম সাহেবার সেই বদ দুয়ার শেষাংশ সফল হয়েছিল। 


তবে সে অন্য কাহিনী। 


সমাপ্ত



Friday, January 15, 2021

সিকন্দর - অল - সানি

 


সিকন্দর - অল - সানি

(৫)

গুর্শাস্প ছিলেন সুলতানের অগ্রজ শিহাবউদ্দীন মসউদ এর পুত্র।  অল্প বয়েসে পিতৃহীন নিজের ভ্রাতুষ্পুত্রকে সুলতান তার নানা গুণের জন্য খুব স্নেহ করতেন। 

সুলতান হবার পর সুলতান  জালালউদ্দিন নিজের প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রকে আমির ই তুজুক এর পদ দিলেন।

নিজের কন্যার সাথে নিকাহ তো আগেই করিয়েছিলন। 

১২৯১ সালে সুলতান নিজের প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাই আলি গুর্শাস্পকে কড়ার সুবেদার নিযুক্ত করলেন। কড়ায় রওয়ানা হবার আগে এই ব্যাপারে বেগম সাহেবাকে এত্তেলা দিতে গুর্শাস্প যখন হারেমে গেলেন  তখন বেগম সাহেবা অত্যন্ত রুক্ষ ভাবে বললেন, " আমার সঙ্গে যদি ঘর সংসার করতে হয় তাহলে দিল্লিতেই থাক। আমার পক্ষে কড়ায় যাওয়া নামুমকিন। "

" এ আপনি কি বলছেন?  আপনি আমার বেগম। শৌহর যেখানে যাবে, বেগমেরও তো শৌহরের সাথে সেখানেই যাওয়া উচিত। "

" চুপ করো। উচিত অনুচিতের তালিম আমাকে দিও না। দিল্লির সুলতানের শাহজাদী কি ভিখমাঙ্গার ঘরে যাবে নাকি। "

নিজের সম্বন্ধে বেগমের মতামত শুনে গুর্শাস্পের মুখ কাল হয়ে গেল। অনেক কষ্টে তিনি নিজেকে সামলালেন। অবরুদ্ধ গলায় বললেন, " শাহজাদী, আমার উপর, আপনার এই শৌহরের উপর,  একটু এতবার রাখুন। আর একটু ওয়াক্ত দিন। আপনার পুরো মহল আমি হীরে মোতি দিয়ে ভরে দেব।"

শাহজাদী খিলখিল করে হেসে ওঠেন, " বাজে কথা বলে আমার ওয়াক্ত যায়া করো না। তুমি কি ভাব নিজেকে। তুমি যেভাবে কথা বলছো তাতে তো মনে হচ্ছে যে দিল্লির সুলতানের শাহজাদী মাটি পাথরের ঢেলা নিয়ে খেলা করে। "

" শাহজাদী, আপনার দিল্লি সলতনতের নেশা হয়ে গেছে। বেশ আমিও ওয়াদা করছি যে সলতনতের পর সলতনত ফতেহ করে আপনার কদমে কুরবান করে দেব। "

আবার শাহজাদী ব্যঙ্গ করেন, " তুমি কড়ার একজন সাধারণ সুবেদার মাত্র। আর এই নৌকরিটাও তুমি পেয়েছ আমার আব্বা হুজুরের মেহেরবানিতে। আর সেই তুমি কিনা খোয়াব দেখছ হিন্দুস্তানের সিকন্দর ( আলেকজাণ্ডার)  হবার। তোমার দিল্লাগি শোনার ওয়াক্ত নেই আমার কাছে বুঝলে। তবে যদি দিল্লিতে থাক, তাহলে আব্বা হুজুরকে বলে আমি তোমার জন্য হয়ত কিছু করতেও পারি। "

লজ্জায় অপমানে থর থর করে কাঁপতে থাকে শরীর। নিজের রক্ত বর্ণ চক্ষু শাহজাদীর সুন্দর মুখের উপর স্থাপন করে গুর্শাস্প শীতল কণ্ঠে বলেন, " শাহজাদী, আমি আলি গুর্শাস্প, আপনার শৌহর,  আজ আপনার খিদমতে এই ওয়াদা করছি যে আপনাকে আমি একদিন সিকন্দর শাহের মত হয়েও দেখিয়ে দেব।" 

লম্বা লম্বা পা ফেলে ক্রুদ্ধ বাঘের মত হারেম থেকে বেরিয়ে আসেন গুর্শাস্প।

কড়ার দিকে অশ্বচালনা করতে করতে বার বার গুর্শাস্পের মনে ভেসে উঠতে থাকে শাহজাদীর গত দিনের অপমানগুলো। এত গুমান, এত ঘমণ্ড,  শাহজাদীর। নিজের শৌহরকে বলে কিনা ভিখমাঙ্গা। গুর্শাস্পকে ঘর জামাই হয়ে থাকতে বলে। গুর্শাস্প থুতু দেয় এই ভাবে অন্যের জি হুজুরি করে বেঁচে থাকাকে।

(৬)

কড়ায় পৌঁছে সুবেদার পদে যোগদান করেন গুর্শাস্প।কিন্তু কয়েক মাস পরেই দিল্লি ফেরত চলে আসেন। সোজা সুলতানের সামনে আর্জি রাখেন গুর্শাস্প। 

" জাঁহাপনা, আমার দিল - ই - খায়িশ এই যে আমি দিল্লি সলতনতকে খুশহাল মজবুত আর বহুত বড়া দেখতে চাই। তাই যদি আপনার ইজাজত হয় তাহলে জঙ্গের জন্য বেড়িয়ে পড়তে চাই।"

সুলতান খুশি হয়ে বলেন, " জরুর, জরুর, খুশ - আম - দিদ। তোমাকে ৮০০০ ঘোড়সওয়ার সৈনিক দিলাম। আজ থেকে তুমি এদের সিপাহসালার। আল্লাহতালা সব জঙ্গে তোমাকে ফতেহ দিন। ইসলামের পরচম (পতাকা)  তুমি সব জঙ্গে বুলন্দ কর।

পরদিনই গুর্শাস্প  ৮০০০ সওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন ভাগ্যান্বেষণে।

১২৯২ সালে গুর্শাস্প মালওয়া ও ভিলাসায় জঙ্গ ফতেহ করেন ও দিল্লি সলতনতের অধিকারে নিয়ে আসেন।

সুলতান খুশি হয়ে গুর্শাস্পের পদ মর্য্যাদা বাড়িয়ে দেন। কড়ার সাথে সাথে তাকে অওধ এরও সুবেদার নিযুক্ত করেন।

সেসময় দেবগিরির যাদব রাজা রামচন্দ্রদেব খুব বীর বিখ্যাত ও ধনবান রাজা ছিলেন। তার অতুল বৈভব ও সম্পদের কথা চার দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

১২৯৪ সালে গুর্শাস্প দেবগিরি আক্রমণ করেন।  ঘনঘোর যুদ্ধের পরে রাজা রামাচন্দ্রদেব পরাজিত হন ও বিপুল পরিমাণ ধন রত্ন দিয়ে সন্ধি ভিক্ষা করেন। নিজের কন্যা জাথ্যাপালির বিবাহ দেন গুর্শাস্পের সাথে। 

নিজের বেগমের দ্বারা তিরস্কৃত ও অপমানিত আলি গুর্শাস্প হীরে মোতি মাণিক্য ও স্বর্ণ মুদ্রার স্তূপের মধ্যে বসে ভাবতে থাকেন নিজের ভবিষ্যত সম্বন্ধে।

কিছুদিন আগেও তিনি শাহজাদীর ভাষায়  ভিখমাঙ্গা ছিলেন। আর আজ তিনি অতুল ঐশ্বর্য্য ও লক্ষ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রার মালিক।

এতদিন বাদে আবার নিজের বেগমের কথা মনে পড়ে গুর্শাস্পের। কেমন আছেন এখন বেগম সাহেবা। দিল্লি ছেড়ে চলে আসার পর আর তার সাথে দেখা হয়নি।

শুধু অপমান ছাড়া আর কিছু পাননি গুর্শাস্প তার নব পরিণীতা বেগমের কাছ থেকে। তবু তারই কথা আজ বার বার মনে পড়ে পত্নী প্রেম বঞ্চিত গুর্শাস্পের।

কিছু ভেবে নিয়ে গুর্শাস্প অস্ফুটে বলে ওঠেন,  " এই শেষ নয়। এই নয় আখিরি জঙ্গ। আরো উপরে উঠতে হবে। আরো উপরে। আর  তার জন্য সব কিছুই করতে হবে। "

সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে যাত্রা শুরু করতে করতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যায় গুর্শাস্পের। তার পর আবার গুর্শাস্পের যাত্রা শুরু হয় কড়ার দিকে। পথে পড়ে এলিচপুর। সেখানেও জঙ্গ ফতেহ করেন গুর্শাস্প। এলিচপুরকেও গুর্শাস্পের অধীনতা স্বীকার করতে হয়।

(৭)

যথাসময়ে গুর্শাস্পের দূত এসে হাজির হয় দিল্লিতে। নিজের স্নেহাস্পদ গুর্শাস্পের সফলতার খবরে খুব আনন্দিত হন সুলতান। তিনিও যে এতবার রাখতেন যে তার পুত্রবত গুর্শাস্প একদিন অনেক উন্নতি করবে।

তিনি গুর্শাস্পের দূতকে স্বর্ণমুদ্রা ইনাম দেন ও বলেন, " যাও দূত, গিয়ে গুর্শাস্পকে বল যে তার বাহাদুরি ও জিন্দাদিলি দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। সে এতদিন পর এত দূর থেকে ফেরত আসছে। তাই তার এখন কষ্ট করে দিল্লি আসার দরকার নেই। আমি নিজে তার সাথে মোলাকাত করার জন্য, তাকে শাবাশি দেবার জন্য কড়ায় যাব। "

সুলতানের বিশ্বস্ত সভাসদ মালিক আহমেদচাপের কিন্তু সুলতানের এই ব্যস্ততা ভাল লাগেনা। মনের কোণে কোথায় যেন একটু অস্বস্তি খোঁচা মারে। থাকতে না পেরে বলে ওঠে মালিক আহমেদচাপ, " জাঁহাপনা জান বখশে। এটা কিন্তু নিয়ম বহির্ভূত কাজ হচ্ছে। বলছিলাম কি এত জলদবাজিতে কড়ায় যাবার দরকার কি?  গুর্শাস্প যাই করে থাকুন না কেন তা তো তার ফর্জ। কেননা তিনি সুলতানের কর্মচারী। অন্য সব সিপাহসালারের মত জঙ্গ ফতেহ করে তারও প্রথমে দিল্লিতে এসে সুলতানের সঙ্গে দেখা করে জঙ্গের সমস্ত এত্তেলা দেওয়া উচিত ও মাল আসবাবের হিসাবপত্র দেওয়া উচিত। রিসালা ( সামরিক কাজে ব্যবহৃত জিনিস পত্র) ও ফৌজের ক্ষয় ক্ষতি কি হল তারও এত্তেলা আলা সিপাহসালারকে (প্রধান সেনাপতি কে) দেওয়া দরকার। জান কি অমান, সুলতান যদি কড়ায় গিয়ে আপনার কোন খতরা হয়। যদি আপনার কোন...."

সুলতান কিন্তু একথা শুনে বিরক্ত হন। " কি ভুলভাল বকওয়াস করছ তুমি আহমেদ। ওখানে আমার আবার কি খতরা হতে পারে। গুর্শাস্প তো শুধু আমার ভাতিজাই নয় সে আমার দামাদ ( জামাই) ও। তুমি কি গুর্শাস্পকে হিংসা করছ নাকি। তাহলে তা ভুলে যাও তুরন্ত। আমি আমার আজিজ (প্রিয়) গুর্শাস্পের হৌসলা বুলন্দ করতে (উতসাহ দিতে) জরুর কড়ায় যাব।" 

কোন বাধা না মেনে, সুলতান জালালউদ্দীন জলপথে দ্রুতগতিতে নিজের প্রিয় গুর্শাস্পের সাথে দেখা করার জন্য যাত্রা করেন। সাথে কয়েকজন মাত্র দেহরক্ষী। 

সুলতানের মূল সেনাবাহিনী যাত্রা করে স্থলপথে। 

সুলতানের দূত গিয়ে গুর্শাস্পকে সংবাদ দেয় যে সুলতান জলপথে আসছেন। 

(৮)

কড়ায় গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে আছেন গুর্শাস্প। তার সাথে কয়েকজন দেহরক্ষী। তার বিজয়ী সৈন্য দল দাঁড়িয়ে আছে একটু তফাতে। 

সুলতানের আসার সময় হয়ে গেছে। সুলতান তাকে কিভাবে শাবাশি দেবেন, কি ভাবে পুরষ্কৃত করবেন হয়ত এই সবই ভাবছেন গুর্শাস্প। কিন্তু তার ভাবলেশহীন মুখ দেখে বোঝার উপায়ও নেই যে তার মনের মধ্যে কি চলছে।

কিছু সময় পর খানিক দূরে গঙ্গার বাঁকে একটা বড় নৌকা দেখা দেয়। নৌকার মাস্তুলে উড়ছে দিল্লির সুলতানের পরচম (পতাকা)। 

একটু বোধহয় অধীর হন গুর্শাস্প। কত জন লোক আছে সুলতানের সাথে? দিল্লি থেকে সঠিক খবর এসেছে তো? 

গুর্শাস্পের কানে বাজতে থাকে বেগম সাহেবার সেই কথাগুলো - তুমি ভিখমাঙ্গা, তুমি সাধারন সুবেদার, তুমি দিল্লিতে ঘর জামাই হয়ে থাক, আমার আব্বা হুজুরের মেহেরবাণীতে তুমি সুবেদার হয়েছ, তোমার নিজের কোন অউকাত নেই... 

গুর্শাস্পের দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়। অস্ফুটে বলেন, " বেগম সাহেবা, আজ আপনি বুঝবেন আমি কি। "

একটু পরেই সুলতানের নৌকা এসে গঙ্গার ঘাটে লাগে। গুর্শাস্প ও তার কয়েকজন দেহরক্ষী এগিয়ে  যান নৌকার দিকে। 

সুলতানও নৌকার কামরার থেকে বাইরে বেড়িয়ে এসেছেন। 

গুর্শাস্পও তার এক জন দেহরক্ষীকে নিয়ে নৌকায় ওঠেন।

" বেটা গুর্শাস্প, আল্লাহ তুমহে সালামত রাকখে.." বলতে বলতে হাসিমুখে এগিয়ে আসেন সুলতান। দুহাত বাড়িয়ে দেন প্রিয় গুর্শাস্পকে আলিঙ্গন করবেন বলে। 

গুর্শাস্পও সুলতানের কদমবোসী করার জন্য ঝুঁকে পড়েন। 

পরমুহুর্তেই গুর্শাস্পের পেছনে দাঁড়ানো দেহরক্ষীর কোষমুক্ত তরবারি সূর্য্যালোকে ঝলসে ওঠে আর সুলতানের স্কন্ধচ্যুত মস্তক গড়িয়ে পড়ে নৌকার পাটাতনের উপরে। 

পরক্ষণেই নৌকায় উঠে আসে গুর্শাস্পের অন্যান্য দেহরক্ষীরা। তারা তীব্র বেগে আক্রমণ করে সুলতানের সঙ্গী সাথীদের। সুলতান নিজের প্রিয় গুর্শাস্পের সাথে দেখা করতে আসছিলেন তাই সাথে বেশি লোকজন নিয়ে আসেননি। তাই কিছুক্ষনের মধ্যে সুলতানের সঙ্গী সাথীদের অবস্থাও হয় সুলতানের মত।

দিল্লির সুলতানির ও মোঘল শাসনের সময়কালে প্রিয়জনদের হত্যা করে শাহী তখত দখল করা ছিল সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই রকম বিশ্বাসঘাতকতার নজির ভারতের ইতিহাসে আর নেই। 

এমনকি ঔরাঙ্গজেবের মত মানুষও অন্তত সন্মুখ যুদ্ধে নিজের ভাইদের পরাস্ত করেছিলেন ও নিজের পিতাকে হত্যা না করে বন্দী করে রেখেছিলেন। 

ক্রমশ..


সিকন্দর - অল - সানি

 


সিকন্দর - অল - সানি

(১)

স্থান : দিল্লির কিলোখেড়ির (মতান্তরে কালুগড়ি) দুর্গ

কাল:  ১২৯১ সাল

নিজের কক্ষে পিঞ্জরাবদ্ধ সিংহের মত পায়চারি করছেন আলি গুর্শাস্প। এত অপমান, এত বেইজ্জতির মুখোমুখি আগে কখনো  হতে হয়নি গুর্শাস্পকে। তাও আবার সেই বেইজ্জতি আর অপমান এসেছে কিনা নিজেরই নিকাহ করা বেগমের কাছ থেকে। নাহয় হলেনই বা বেগম সাহেবা দিল্লির সুলতানের প্রিয় শাহজাদী। তা বলে তার এত অহঙ্কার এত ঘমণ্ড হবে যে নিজের শৌহরকেও এইভাবে বেইজ্জতি করতে হবে। গুর্শাস্প নিজে তো তাকে কখনো নিকাহ করতে চাননি। সুলতানের অনুরোধেই তিনি শাহজাদীকে নিকাহ করেছেন।

কয়েকমাস হল, দিল্লির সুলতান হয়েছেন জালাল - উদ্দিন - ফিরোজ - খিলজি। আলি গুর্শাস্প তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র। ছোটবেলায় পিতৃহীন গুর্শাস্পের সাহস জেদ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখে সুলতান তাকে খুব স্নেহ করেন। তাই সুলতান নিজের সব থেকে সুন্দরী ও প্রিয় শাহজাদীর নিকাহ করেছেন গুর্শাস্পের সঙ্গে।  আলি গুর্শাস্প এখন শুধু আর সুলতানের ভ্রাতুষ্পুত্রই নন, তার প্রিয় জামাইও বটে। কিছুদিন হল সুলতান গুর্শাস্পকে কড়ার সুবেদার নিযুক্ত করেছেন। 

গঙ্গা নদীর তীরে বর্তমান এলাহাবাদ শহরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত কড়া সেসময় ছিল একটা প্রসিদ্ধ জনপদ। কড়ার প্রাচীন হিন্দু নাম ছিল কৌশাম্বী।

(২)

গুর্শাস্পকে শীঘ্রই দিল্লি ছেড়ে কড়ায় চলে যেতে হবে। তাই আজ তিনি নব পরিণীতা বেগম সাহেবা কে বলতে গেছিলেন যে তিনিও যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্তূত হয়ে নেন। কেননা তিনি বেগম সাহেবাকেও সাথে নিয়ে যেতে চান। শৌহর যেখানে থাকবে বেগম সাহেবারও তো ঘর সংসারের প্রয়োজনে  সেখানেই থাকা উচিৎ। তাই তো স্বাভাবিক।  কিন্তু কড়ায় যাবার কথা শুনে বেগম সাহেবা যে ভাষায় তাকে বেইজ্জত করলেন, তা গুর্শাস্পের মনে তীব্র জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে। এসম্বন্ধে সুলতানকেও বলে কিছু হবেনা। এই শাহজাদীটিকে সুলতান অত্যন্ত স্নেহ করেন। তাই তিনিও শাহজাদীরর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোর করে কড়ায় পাঠাবেন না। যদিও গুর্শাস্প নিজেও সুলতানের প্রিয়পাত্র।

সারা রাত ঘুম হয়না গুর্শাস্পের। সকালে উঠে গোসল করে ফজরের নামাজ পাঠ করার পর মন একটু শান্ত হয়।

সুলতানের অনুমতি নিয়ে গুর্শাস্প নিছক একাই যাত্রা করেন কড়ার দিকে নিজের নতুন পদভার গ্রহণ করার জন্য।

দিল্লি ছেড়ে যেতে যেতে মনে মনে ভয়ানক এক কসম খান গুর্শাস্প।

" অভিমানী শাহজাদী, কিছুদিন আগেও তুমি ছিলে এক সাধারণ জায়গীরদারের বেটি। আর আজ আল্লাহ্‌র দোয়ায় শাহজাদী হয়ে তুমি নিজের শৌহরের সাথে কিভাবে পেশ আসতে হয় তাও ভুলে গেছ। এত তোমার অহঙ্কার, এত তোমার অভিমান, এত তোমার গরুর। বেশ, আমি আলি গুর্শাস্প, তোমার শৌহর, আজ কসম নিলাম, যে তোমার ওই অভিমান, তোমার ওই গরুর, একদিন চূর্ণ করে দিল্লির পথের ধূলোয় মিশিয়ে দেব। যে দিল্লি থেকে আজ আমাকে বেইজ্জত হয়ে চলে যেতে হচ্ছে।

ইন্তেজার কর শাহজাদী, আমার ইন্তেজার কর।" 

(৩)

তুর্কি বলবন বংশের শেষ সুলতান কায়কোবাদ পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়েন। তার পক্ষে আর দিল্লির সুলতানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। এর ফলে দিল্লিতে ভয়ানক অরাজকতা দেখা দেয়। তাই সুলতান কায়কোবাদের অধীনস্থ কয়েকজন প্রভাবশালী আমির সুলতান কায়কোবাদকে সিংহাসনচ্যুত করে, তার নাবালক পুত্র কায়মুর্সকে সুলতান শামসুদ্দীন নাম দিয়ে দিল্লির তখতে বসায়।

বলাই বাহুল্য সুলতান শামসুদ্দীন ছিলেন নাম মাত্র সুলতান। তাকে সামনে রেখে প্রকৃতপক্ষে আমিরেরাই শাসন ব্যবস্থা চালাতে থাকেন। কিন্তু দিল্লিতে অরাজকতা আর অশান্তি দিন দিন বেড়েই চলে। কেননা আমিররা সবাই নিজের নিজের স্বার্থসিদ্ধি করছিলেন।

মালিক ফিরোজ ছিলেন সেসময় বরণ এর জায়গীরদার এবং সামানার আরিজ - ই - মৌমালিক (রক্ষা মন্ত্রী)। 

মালিক ফিরোজ এই অরাজকতার সুযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। একদিন রাতের অন্ধকারে হঠাৎ নিজের বাছা বাছা কয়েকজন সর্দার ও মাত্র ৫০০ সৈনিক নিয়ে দিল্লি আক্রমণ করেন এবং নাবালক সুলতান শামসুদ্দীনকে অপহরণ করেন।

মালিক ফিরোজের অধীনস্থ এক সর্দারের পিতাকে সুলতান কায়কোবাদ এক সময় মৃত্যদণ্ড দিয়েছিলেন। প্রতিশোধ স্পৃহায় জ্বলতে জ্বলতে সেই সর্দার এখন সুযোগ পেয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত চলৎশক্তিহীন সুলতান কায়কোবাদকে বন্দী করে হাত পা বেঁধে যমুনায় ফেলে দেয়। 

যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা যমুনা, ইন্দ্রপ্রস্থ ও শাহি দিল্লির হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের ও নানা ঘাত প্রতিঘাতের নীরব সাক্ষী যমুনা, দিল্লির শেষ তুর্কি সুলতান হতভাগ্য কায়কোবাদকে নিজের আঁচলের তলায় লুকিয়ে ফেলে পরম শান্তি প্রদান করে।

তবে যে খিলজি সর্দার এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছিল তার নাম কিন্তু জানা যায়না। ইতিহাসে তা লেখা নেই।

এরপর আর মালিক ফিরোজের দিল্লির সুলতান হবার পথে কোন বাধা রইলো না।

(৪)

স্থান: দিল্লির কিলোখেড়ির দুর্গ।
কাল: ১৩ জুলাই ১২৯০ সাল।

৭০ বছরের মালিক ফিরোজ, জালাল-উদ্দীন-ফিরোজ-খিলজি, নাম গ্রহণ করে দিল্লির সুলতান হলেন। সুলতান কায়কোবাদের এন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে দিল্লিতে তুর্কিদের রাজত্ব শেষ হল। কিলোখেড়ির দুর্গে উড্ডীন হল খিলজি বংশের পতাকা।

তৎকালীন দিল্লি দরবারের আমিররা ও দিল্লির সাধারণ অধিবাসীরা বেশির ভাগই ছিল তুর্কি বংশজাত। আর নতুন সুলতানের আদি বাসস্থান ছিল আফগানিস্তান। তার উপর আবার তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ বংশের সন্তান। তথাকথিত বংশ মর্য্যাদা ও শাহী  আভিজাত্য তার ছিলনা। তুর্কি সুলতানকে সরিয়ে একজন আফগান দিল্লির সুলতান হয়েছে, একথা মেনে নিতে সবারই কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু দিল্লিতে তখন এতই অরাজকতা, যে দিল্লির শাহী তখত সুলতানহীন থাকার চেয়ে একজন আফগান সুলতানও মন্দের ভাল, এই ভেবে কেউ কোন প্রতিবাদ করল না।

কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দিল্লির সাধারণ লোকেদের মন জয় করে নিলেন নতুন খিলজি সুলতান জালাল-উদ্দীন-ফিরোজ খিলজি। তার বিশাল হৃদয় ও দয়া দাক্ষিণ্য  ছিল প্রায় কিংবদন্তীর পর্যায়ের।

সাধারণ জায়গীরদার ছিলেন তিনি। দিল্লির শাহী তখতে বসার ও সুলতান হবার কোনরকম সম্ভাবনা ছিলনা কোন ভাবেই।

কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহর কৃপায়, জীবন সায়াহ্নে এসে, ৭০ বছর বয়েসে তিনি দিল্লি তথা হিন্দুস্তানের সুলতান হলেন। তাই তিনি ইসলামের দয়া, করুণা, ও ক্ষমার নীতি মেনে চলতেন।

সুলতান জালাল-উদ্দীন-ফিরোজ-খিলজি সম্বন্ধে যে ঘটনাগুলো ইতিহাসে বহুল প্রচারিত তার কয়েকটা এখানে উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

তিনি যখন সুলতান হলেন তখন তুর্কি বলবন বংশের মালিক ছজ্জু ছিলেন কড়ার সুবেদার। কয়েক মাস পর তিনি নতুন সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। সুলতান নিজের পুত্র আরকালি খানকে বিদ্রোহ দমন করতে পাঠালেন। আরকালি খান মালিক ছজ্জুকে বদায়ুনের কাছে পরাস্ত করলেন ও বন্দী করে দিল্লি নিয়ে এলেন।

সেসময় বিদ্রোহীদের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু সুলতান, মালিক ছজ্জুকে মাফ করলেন। শাহী ভোজে আপ্যায়িত করলেন এবং মুলতানে তার বসবাসের ব্যবস্থা করে দিলেন। কড়ার সুবেদার করলেন নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা জামাই আলি গুর্শাস্পকে।

তার প্রহরীরা যখন কোন চোর ডাকাত বা ঠগকে বন্দী করত, তখন প্রায়শ:ই তিনি তাদের কোন শাস্তি না দিয়ে,  স্বয়ং নিজে তাদের কোরাণ শরীফ থেকে উপদেশ দিয়ে বোঝাতেন যে, চুরি ডাকাতি করা কত খারাপ। তারপর হয় তাদের মুক্তি দিতেন বা খুব বেশি হলে তাদের দিল্লি থেকে নিষ্কাশিত করে দিতেন। যদিও তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় এসব অপরাধের শাস্তি ছিল প্রানদণ্ড। একবার কয়েকশত খুনি, ডাকাত ও চোরকে নিজের প্রহরীদের পাহাড়ায় সুদূর বঙ্গে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এই ভেবে যে তারা ওখানে সৎভাবে নিজের জীবন নতুন ভাবে শুরু করবে।

১২৯০ সালে রাজপুতানার রণথোম্ভর দুর্গ আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বুঝলেন যে দুর্গ অধিকার করার জন্য যুদ্ধ করলে দুপক্ষেই প্রচুর প্রাণনাশ হবে। তাই দয়ালু সুলতান অযথা রক্তক্ষয়  না করে ফেরত চলে আসেন ও বলেন,  " ওই দুর্গের মূল্য আমার কাছে একজন সাচ্চা মুসলমানের একটা চুলের থেকে বেশি নয়।"

তার এক সভাসদ তাজ-উদ্দীন-কুচি একবার এক বড় ভোজের আয়োজন করেছিলেন ও সুলতানকে নিমন্রণ করেছিলেন। সেখানে দুজন অসন্তুষ্ট আমিরও উপস্থিত ছিলেন।

তাদের মধ্যে একজন আরেকজনকে বলছিলেন যে,  " আমার ইচ্ছা করে যে সুলতানের বুকে এই ছুরি বসিয়ে দি।"

অন্যজন উত্তর দেন, " আমার ইচ্ছা করে সুলতানের মুণ্ডচ্ছেদ করি। "

সুলতান দুজনের কথাই শুনতে পেয়েছিলেন। অন্য কোন সুলতান হলে তৎক্ষণাত ওই দুই আমিরকে বন্দী করতেন। কিন্তু জালাল-উদ্দীন-ফিরোজ- খিলজি, তাদের সামনে গিয়ে, নিজের তরবারি তাদের সামনে নামিয়ে রেখে বলেন, " বেশ, তোমাদের সাহস থাকে তো এই তরবারির প্রয়োগ আমার উপর করো। "

তখন ওই দুই আমির ক্ষমা চাইবার পথ পায়না। দয়ালু সুলতান তাদের সতর্ক করে দিয়ে ছেড়ে দেন।

এসব ঘটনার দরুণ অনেকেই তাকে দুর্বল সুলতান মনে করতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি দুর্বল ছিলেন না।

তার সময় মঙ্গোলরা, বিগত দিনের বিখ্যাত মোঙ্গল সেনাপতি, হালাকু খানের নাতি, আব্দুল্লার সেনাপতিত্বে দিল্লি আক্রমণ করে।

এই দুর্ধর্ষ মঙ্গোল বাহিনীকে সুলতান যুদ্ধে পরাস্ত করেন। এই মঙ্গোল বাহিনীর বেশ কিছু সৈনিক সুলতানের কাছে প্রার্থনা করে যে তারা হিন্দুস্তানে থেকে যেতে চায়। এর জন্য তারা ইসলাম ধর্মও কবুল করতে রাজি।

দয়ালু সুলতান তাদের দিল্লি শহরের বাইরে থাকবার অনুমতি দেন। কিন্তু এবার সুলতান ভুল করেছিলেন। কেননা এরাই পরে নানা কারণে দিল্লি সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী মঙ্গোল আক্রমণের সময় এরা নিজেদের জাতভাইদের সাহায্য করেছিল।

ক্রমশ:..



Wishing you all on 73rd Army Day

 नायमात्मा बलहीनेन लभ्यो 

-मुण्डकोपणिषद-

Nayamatma Balhinena Labhya 

(Self realization is not for the weak)

-Mundak Upanishad-


On the 73rd Army Day. Let us pay our tributes and salutes to Indian Army. 


Army Day is celebrated on 15 January every year in India, in recognition of Lieutenant General (later Field Marshal) K. M. Cariappa's taking over as the first Commander-in-Chief of the Indian Army from General Sir Francis Butcher, the last British Commander-in-Chief of India, on 15 January 1949.


Indian Army is one of the largest peace keeping forces in the world.


Another good news on Army Day:


Indian Army’s Major Anoop Mishra has indigenously developed world’s first universal bulletproof jacket 'Shakti' which can be used by both male and female combatants. The jacket is also the world’s first flexible body armour.


Indian Army - Always ahead  Always brave Always for the country.









Thursday, January 14, 2021

নম হে নম

 নম হে নম


সে অনেক বছর আগের কথা। আমি তখন ক্লাস টু তে পড়ি। সেই সময় টাইফয়েডে আক্রান্ত হই। প্যারা টাইফয়েড নয়, একেবারে আসল টাইফয়েড। অদ্ভুত ভাবে অসুখের প্রথম দিকে দিল্লির সেই সময়ের প্রবাদ প্রতিম ডাক্তাররা - ডা. টি. এন. ঘোষ, ডা. এল. এম. গাঙ্গুলি - এরা রোগটা ধরতেই পারলেন না। অসুখ বেড়ে গিয়ে মর মর অবস্থা।  অবশেষে রোগ ধরলেন আমার দাদুরই এক বন্ধু ডাক্তার, যিনি আবার এম বি বি এসও নন। তিনি ছিলেন সেকালের এল এম এফ। তাঁর পরামর্শ মত রক্ত পরীক্ষা করে রোগ ধরা পড়ে। তাঁর নামটা এখন আর মনে নেই। আমি তাঁকে ডাক্তার দাদু বলতাম। তিনি তখন প্র‍্যাকটিস করা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই চিকিৎসার ভার নিলেন না। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ডা. টি. এন. ঘোষ চিকিৎসা শুরু করলেন। 


ডাক্তার দাদু মাঝে মাঝে আমাকে দেখতে আসতেন ও মাকে আমার ব্যাপারে নানারকম উপদেশ দিতেন। বাবাকে বললেন যে, " ওর স্কুলে গিয়ে জানিয়ে এস যে ও অন্তত দু-আড়াই মাস স্কুলে যেতে পারবে না। কেননা চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়েছে। ওর পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে। রোগ সারবার পরও অন্তত একমাস লাগবে স্বাস্থ্য ফিরে পেতে। আর এখন পুরোপুরি বেড রেস্টে থাকতে হবে। " 


সেতো হল। কিন্তু শুয়ে শুয়ে আমার আর সময় কাটেনা।  মাকে বাবাকে অনবরত নালিশ করতে লাগলাম। 


আমাদের বাড়ির খুব কাছেই ছিল দিল্লির রামকৃষ্ণ মিশন। বাবা সেখানে মাঝে মধ্যেই যেতেন। আমার ঘ্যান ঘ্যান শুনে বাবা একদিন রামকৃষ্ণ মিশনের বুকস্টল থেকে বাচ্চাদের উপযোগী কিছু বই কিনে এনে আমাকে দিলেন। বললেন, " শুয়ে শুয়ে এই বইগুলো পড়। ভাল লাগবে তোর। " 


তার মধ্যে একটা বই ছিল - স্বামী বিবেকানন্দের কথা ও গল্প। এই বইটা আমার কাছে এখনো আছে। 


আরেকটা বই ছিল - ছোটদের বিবেকানন্দ। বইটা ছিল এখনকার " দেশ " পত্রিকার আকারের থেকে  একটু বড় আকারের । বইটিতে স্বামীজির জীবনী ছিল লেখায় ও ছবিতে। এক পাতায় লেখা আর এক পাতায় ছবি। অসম্ভব ভাল ও উচ্চমানের ছিল বইটি। যেমন লেখা তেমন সব ছবি। স্বামীজি ছোটবেলায় দুষ্টুমি করছেন, পরিব্রাজক স্বামীজি, আমেরিকা যাত্রা, বিশ্ববিজয় করা, তাঁর শেষ জীবন। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই ছবিগুলো পাতা উল্টে উল্টে দেখতাম। জানিনা এখনো এই বইটি পাওয়া যায় কিনা। তবে আমি নিঃসন্দেহ যে বাংলা পড়তে পারে এমন কোন পাঁচ ছ বছরের শিশুকে এই বইটি দিলে সে স্বামীজির পাল্লায় পড়বেই পড়বে। যেমন আমি পড়েছিলাম। 


তারপর আরো বারোটাটি বাজল যখন ক্লাস এইটে পড়লাম বিখ্যাত লেখক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের বীরেশ্বর বিবেকানন্দ। সেই যে স্বামীজি নামক মহাসমুদ্রে সাঁতার দেওয়া শুরু হল তা আজও চলছে। চলবেও আজীবন। 


মাঝে মাঝে ভাবি, কি অদ্ভুত মানুষ ছিলেন। বেঁচে তো ছিলেন মাত্র উনচল্লিশ বছর কয়েক মাস। তার মধ্যে এত কিছু করে গেলেন কি করে? কি করে সৃষ্টি করলেন অসংখ্য কর্মযোগী? তার অনুপ্রেরণায় সৃষ্টি হলেন সুভাষের মত বিপ্লবী। তাঁর ব্রহ্মলীন হবার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কত শত মানুষ তাঁর অনুপ্রেরণায় ও তাঁকে গুরু মনে করে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয় - কখনো বা পরহিতার্থে আবার কখনো বা দেশ মাতৃকার পদতলে। 


এরকম মানুষদের কথা আমাদের কানে আসেনা কেননা তাঁরা নিজেদের নাম যশের জন্য কিছু করেন না। তাঁরা সবাই সন্ন্যাসীও নন।  কিন্তু তাঁরা নিজেদের কাজটা ঠিকই করে যান। 


এই রকম কিছু মানুষের সন্ধান আছে আমার কাছে। তাদের নিয়ে ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল।


জয়তু বিবেকানন্দ।



Lohri and Makar Sankranti

 Wishing you all Subha Makar Sankranti and Lohri. 


Makar Sankranti marks the transition of the sun into the zodiac sign of Makara (Capricorn) on its celestial path which is the first change in the zodiac after the winter solstice. 


The festival is celebratrd throughout the Indian subcontinent to observe the day which marks the shift of the sun into ever lengthening days. 


The festival is a seasonal observance as well as religious celebration. 


The festival is also dedicated to the sun God and marks the auspicious period for 

the Hindus known as "UTTAARAYAN".


The importance of Uttaarayan is exhibited in the Hindu epic Mahabharata, where Bhisma Pitamaha waited for the sun to be in Uttaarayan to die willingly. 


Makar Sankranti is believed to be a time for peace and prosperity. The day is regarded as important for spiritual practises and accordingly people take a holy dip in rivers like Ganga Yamuna Godavari Krishna and Cauvery. The bathing is believed to wash away sins.


Lohri is a popular punjabi festival. It is a popular belief that the festival commemorates the passing of the winter solstice. Lohri represents the longest night before winter solstice as Lohri was originally celebratrd on the night before winter solstice followed by the shortest day of the year which is observed on Makar Sankranti. About sixteen centuries ago these festivals were actually observed  at the point of winter solstice which now generally occurs around 21,22 or 23 December. 


There are many origins of Lohri all forming part of folklore. 


According to folklore, in ancient times Lohri was celebrated on the eve of winter solstice day. It is for the reason that the people believe that day light is meant to increase from the day after Lohri when the sun starts it's north ward journey. 


However instead of celebrating Lohri on the eve of when winter solstice actually occurs, Punjabis celebrate it on the last day of the month during which winter solstice takes place. 


This is due to linking Lohri to the Bikrami calendar and the twinning of the festival with Makar Sankranti,which is celebratrd in the Punjab region as Maghi Sangrand. Therefore Lohri commemorates the passing of winter solstice. 


Lohri is traditionally associated with the harvest to of rabi crops. The traditional time to harvest sugarcane is January and therefore Lohri is seen by some to be a harvest festival. 


Punjabi farmers also regard Lohri as the financial new year. New agricultural tenancies commence on Lohri and rents are collected on this day.







Tuesday, January 12, 2021

Vivekananda Jayanti and National Youth Day

 Wishing you all on Vivekananda Jayanti and National Youth Day.


Saturday, January 2, 2021

Wishing my school a very happy birthday

 Today is the birthday of my beloved school. It was established on this day in 1925.


I am ever indebted to my school, from where I have gained so much in life. 


The logo of the school first came into existence in 1975, the golden jubilee year of the school, along with the motto - From the depths of science to the heights of knowledge. 


From so many memories which I have, I am now recalling two. 


The prayer meeting was a unique one. It used to begin with Stand at ease and then Attention and these orders used to come from our PT Sir. 


Then Tagore's " Chitta Jetta bhoy shunya" , then Vande Mataram and Asotoma Sadgamaya was sung by a group of students. 


Then a student of class 9 or 10 had to give a public speech for 2 - 3 minutes on any subject of his/her choice. Who will give the speech was decided roll no. wise. This system began at the time of our Principal Sir, Dr. Amarnath Bannerjee. I don't know whether this system is still there.


Lastly there was Jana gana mana.


Second memory is of our NCC parades two days in a week. At my time NCC in - charge of the school was Prabhat Sir. 


School timings used to over by 2 PM. Then we, the cadets used to assemble in the school ground for parade, in full uniform. 

Our school was attached to No.1 NCC Air Squadron Delhi. 


I joined NCC while in class seven and left it in class 10. For three years I was an NCC cadet. During these three years I earned my J-l and J-ll certificates, attended two NCC camps, participated once in Independence Day show saluting the then PM Indira Gandhiji. 


Love you always Raisina.






Wishing a very Happy New Year 2021

 সময় এগিয়ে চলে তার নিজস্ব গতিতে। বহমান স্রোতের মত। তাই আবার এসেছে নব বর্ষ।


সবাইকে জানাই নব বর্ষ ২০২১ এর যথাযোগ্য শ্রদ্ধা শুভেচ্ছা ও ভালবাসা।


সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। পরমেশ্বরের কৃপায় নব বর্ষ হোক মঙ্গলময়।


वर्ष नव, हर्ष नव, जीवन उत्कर्ष नव।

नव उमंग, नव तरंग, जीवन का नव प्रसंग।

नवल चाह, नवल राह, जीवन का नव प्रवाह।

गीत नवल, प्रीत नवल, जीवन की रीति नवल,

जीवन की नीति नवल, जीवन की जीत नवल!

                                   (हरिवंशराय बच्चन)

परमेश्वर की कृपा से नव वर्ष 2021 सबके लिए मगंलमय हो।


Forget not the march of time

Forlorn in the lure of clime

Friend or foe to the thy art

Dive within and search thy heart

Who else is there but for you

Head and tail are both untrue

Fear not  - the flames of filthy senses

Fear not – at the fancy glimpses

Kill thy ego with mundane merit

Fill thyself with holy spirit.


(Courtesy: Umaprashad Mukhopadhyay, was a noted traveller and travell writer and younger brother of Shyamaprashad Mukhopadhyay. Once while trekking in the Garhwal Himalaya a sanyasi blessed him with this poetry on a New Year day.)


I also wish the same to all my friends on the onset of the New Year 2021. May all of you have a very happy new year 2021. May all of you enjoy the Lord's blessings throughout the year.