Saturday, February 13, 2021

Wishing you all on World Radio Day

 Wishing you all a very happy World Radio Day


Every year on February 13 World Radio Day is celebrated. This year is the 10th anniversary of World Radio Day


 Radio has remained the most resilient and far-reaching medium of communication even in the time of innumerable online platforms and WhatsApp. 


The history of radio goes back over 110 years. World Radio Day celebrates radio as "part of humanity's history" according to the United Nations. Radio has adapted itself over the decades and played a key role in disseminating information to people in remote corners of the world in times of crisis including the ongoing Covid pandemic. The popularity of Prime Minister Narendra Modi's  'Mann Ki Baat' proves the importance of radio as a medium of communication.


The UNESCO has called on radio stations to celebrate the 10th anniversary of World Radio Day through three sub-themes: evolition, innovation and connection.


The world changes, radio adapts and innovates- radio adapts to new technologies and remains the go-to medium of mobility, accessible everywhere and to everyone.


"New World, New Radio" is an "ode to the resilience of radio", says the UN. World Radio Day was started in 2011 by the Member States of UNESCO and in 2012, the United Nations General Assembly adopted it as an International Day.


Five reasons why the radio is unique:


Radio is a low-cost medium.

Radio remains the most widely consumed medium.

Radio can reach out to the widest audience.


Radio stations offers a wide range programmes, which are suitable for local communities globally.


Radio plays a key role in emergency communication when natural disasters strike.


Apart from  commercial Radio services there is another service which is called Amateur Radio service nicknamed as HAM RADIO.


Amateur radio or ham radio is practised by more than 42,000 licensed users in India.


The first amateur radio operator was licensed in 1921, and by the mid-1930s, there were around 20 amateur radio operators in India. Amateur radio operators played an important part in the Indian independence movement with the establishment of illegal pro-independence radio stations in the 1940s.


The first amateur radio operator in India was Amarendra Chandra Gooptu (callsign 2JK), licensed in 1921. Later that year, Mukul Bose (callsign 2HQ) became the second ham operator, thereby introducing the first two-way ham radio communication in the country. 


These two gentlemen are Bengalis who are the pioneers in their fields. I am requesting the honourable members of the group, to share, if they know something about these two gentlemen. 


Last but not the least, though the credit of inventing Radio goes to Guglielmo Giovanni Maria Marconi (25 April 1874 – 20 July 1937) yet now the world admits that basic work of Radio Engineering was done by our very own Sir Jagadish Chandra Bose. 


Photos: 1. First Radio station in USA

               2. Guglielmo Marconi.

               3. Sir Jagadish Chandra Bose

Source: Photos taken from Net.  Informations are based on Personal Reading and Net sources.






Monday, February 8, 2021

প্রোপোজ ডে

 প্রোপোজ ডে


আজ ৮ ফেব্রুয়ারি - প্রোপোজ ডে। কিন্তু এইরকম একটি প্রোপোজাল বা বিবাহ প্রস্তাবের কথা আপনারা জানেন কি। আসুন, আমরা ইতিহাসের পথ ধরে একটু পিছিয়ে যাই।


বিচারালয়ের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে তিন আসামী। দুই পুরুষ আর এক নারী। ভারত স্বাধীন করার জন্য এরা বেছে নিয়েছে সশস্ত্র বিপ্লবের পথ। তাই ব্রিটিশ শাসকদের চোখে এরা অপরাধী। 


এই পুরুষদের মধ্যে একজনকে বিপ্লবীরা ডাকে মাস্টারদা, অন্য জনকে ডাকে ফুটুদা। আর নারীটির নাম কল্পনা দত্ত। 


মাস্টারদা কে ছিলেন তা নিশ্চয় কাউকে বলতে হবেনা। বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ডাক নাম ছিল ফুটুদা। 


চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুট করার মামলা চলছে এই তিন আসামীর বিরুদ্ধে। 


মাস্টারদা, তারকেশ্বর দস্তিদার এবং কল্পনা দত্তকে বিচারের জন্য ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১২১/১২১এ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। 


এই ট্রাইব্যুনালের কমিশনাররা ছিলেন, বাখরগঞ্জের দায়রা জজ ডব্লিউ ম্যাকসার্পি, সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ রজনী ঘোষ এবং চট্টগ্রামের দায়রা জজ খোন্দকার আলী তোয়েব।


 ১৫ জুন ১৯৩৩ এ শুরু হওয়া এ মামলায় কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। ১৪ আগস্ট ১৯৩৩ সালে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


মামলার রায় ঘোষণার আগে একদিন বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই কল্পনাকে বললেন, " কল্পনা, তুই নিশ্চয় অনুভব করেছিস যে তোকে আমার খুব ভাল লাগে। যদি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারি তাহলে তুই কি আমার জন্য অপেক্ষা করবি। "


স্মিত হাসেন কল্পনা তার ফুটুদার দিকে তাকিয়ে। তাঁরও মন যে বাঁধা পড়েছে। কিন্তু কি বলবেন তিনি। তারা সবাই তো হাঁটছেন অগ্নিপথের উপর দিয়ে। সামনে ঘোর অনিশ্চিত ভবিষ্যত। কল্পনা ফুটুদার দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকেন। মৌনতা তো সম্মতিরই লক্ষণ।


কিন্তু তখন নিশ্চয় তাঁরা বোঝেন নি যে এই বিবাহ প্রস্তাব বা প্রোপোজাল অমর হয়ে যাবে ভারতের ইতিহাসে। 


 আনন্দবাজার পত্রিকার খবর ছিলঃ “চট্টগ্রাম ১৪ই আগস্ট—অদ্য দ্বিপ্রহর ১২ ঘটিকার সময় স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল হইতে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের মামলার রায় প্রদত্ত হয়। ট্রাইব্যুনাল সূর্য সেনকে ১২১ ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করিয়া প্রাণদন্ডে দন্ডিত করেন। ওই একই ধারায় তারকেশ্বর দস্তিদারের প্রতিও প্রাণদন্ডের আদেশ প্রদত্ত হয়। কুমারী কল্পনা দত্তকে ভারতীয় দন্ডবিধির ১২১ ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করিয়া তাঁহার প্রতি যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ প্রদান করা হয়। আদালত প্রাঙ্গনের চারিদিকে পুলিশের বিশেষ বন্দোবস্ত করা হইয়াছিল। রায় প্রদত্ত হইবার পুর্বে সেনাদল কিছুকাল শহরে কুচকাওয়াজ করে। আসামীরা শান্তচিত্তে দন্ডাদেশ গ্রহণ করে এবং তৎক্ষণাৎ আদালত হইতে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁহারা বিপ্লবাত্মক ধ্বনি করিতে করিতে আদালত গৃহ ত্যাগ করে। ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট রায়ের উপসংহারীয় অংশ পাঠ করেন। ১৫০ খানা টাইপ করা কাগজে প্রদত্ত হইয়াছে।” 


 মামলার রায় প্রদানের পর তিনজন বিপ্লবীর পক্ষে কলকাতা হাইকোর্টে আপিলের আবেদন করা হয়। ১৪ নভেম্বর ১৯৩৩ সালে হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের দেয়া দন্ড বহাল রাখে।


মাস্টারদা আর তারকেশ্বর দস্তিদার প্রাণদান করেন ফাঁসির মঞ্চে। কল্পনা জেল থেকে ছাড়া পান ১৯৩৯ এ। ১৯৪০ এ স্নাতক হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর যোগদান করেন কম্যুনিস্ট পার্টি অফ ইণ্ডিয়া তে।


১৯৪৩ এ তাঁর বিবাহ হয় কম্যুনিস্ট পার্টি অফ ইণ্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি পূরণ চাঁদ যোশির সাথে।


পূরণ চাঁদ যোশি যখন কল্পনাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন তখন কল্পনা বলেছিলেন, " আমি কিন্তু বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারকে কথা দিয়েছিলাম। "


কল্পনা বোধহয় তাঁর ফুটুদাকে ও সেই প্রোপোজালকে  আজীবন মনে রেখেছিলেন। 


এই অপূর্ব বিবাহ প্রস্তাব বা প্রোপোজাল যিনি পেয়েছিলেন সেই বিপ্লবী কল্পনা দত্তের আজ প্রয়াণ  দিবস (৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)।


(তথ্যসূত্রঃ কল্পনা দত্ত লিখিত "চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণকারীদের স্মৃতিকথা"।)




Monday, February 1, 2021

Mollion Salutes

 Salutes to these two lady Indian Navy officers.


What a proud moment for the Indian Navy. Change of command at INHS Ashvini, the premier hospital ship of the Indian Navy! Surgeon Rear Admiral Arti Sarin takes over command from Rear Admiral Sheila Mathai, VSM.

 

An alumnus of the Armed Forces Medical College, Pune,  Surgeon Rear Admiral Arti Sarin was commissioned into the Armed Forces Medical Services in 1985. She has the distinction of having completed two postgraduate degrees --MD in Radiology at AFMC Pune and DNB Radiation Oncology from the Tata Memorial Hospital, Mumbai.




A brave Bramhin

 The BRAVE Brahmin with a very Big Heart


The gentleman in the photo is Krishnamurthy Iyer ji - known as Kittu Mama.


Kittu Mama is a 65 year old senior citizen and sells Dosai and Idli in Trichy near Theppakulam closer to Chathiram Bus Stand.


He sets up his shop after 6 PM and sells delicious Idli, Dosai with tasty chutney at very affordable prices.  He is a roadside cart based outlet. He is assisted by his wife and a young worker.


Most of his clients are labourers, working women staying in Women's hostels, Bus Conductors, Auto Rickshaw drivers, goods cart pullers, Bus Drivers/Truck Drivers etc. Local people there highly respect him.


Few days back he was making and selling idlis and dosa as usual. And local councillor Pandian came and asked for Idli/Dosa.. He was punch drunk. He is a local ruffian and collects hafta from vendors.  He was with two rowdies. All of them ate food and Pandian did not pay the money for the food.


When Kittu Mama's wife asked for money, Pandian became angry and pushed Kittu Mama and threw away Utencils with Atta for Dosai/Idli.  And abused them - "You Iyer - how dare you ask ME money?"


And he proceeded to pull and tear the janeyu of Kittu Mama.. 


Kittu Mama became ferocious and picked up a bamboo stick which was lying nearby and bashed up the goons. And he was saying "Yes I am poor brahmin but my Poonool (Janeyu) is vedaswaroopam. How dare you try to insult it?  I also know martial arts and has learnt it perfectly"..  Then he showed his skills in Silambattam and hit the goons again.


Everyone there were watching but did not stop the goon due to fear.  The thuggish neta Pandian ran away but threatening Kittu Mama that he would come next day with his party workers and sort him out. 


Kittu Mama continued his work of making food.  Few labourers around there told Kittu Iyer that next day they would protect him when the goons come.


Next day evening Kittu Mama started his shop as usual. Councilor goon did not turn up.  Next Day also he did not come.


Then Kittu Mama came to know that after fighting with him, the councilor met with an accident and was in ICU and in need of rare blood group for operation. Blood donation request had been flashed in TV too.


Kittu Mama immediately went to hospital, donated blood as his blood group matched that of the councilor, stayed in the night till the operation was over.


Next day morning, Councilor's family thanked him and Kittu Mama went and met the councilor who was in a Condition to talk.  He apologized profusely to Kittu Mama. 


And Kittu Mama told -"I had to defend my Janeyu as it is my dharma.  I had to save you too as it is also my dharma. And you have a family hence I felt I should definitely donate blood" and moved away.

..

Source: Internet




একজন ডাক্তারের মৃত্যু

 গোমূত্রে ক্যানসার সারে ।  ময়ূরের চোখের জল থেকে ময়ূরী গর্ভবতী হয়! মহাভারতে ইন্টারনেট?


এই সব শুনে যারা হাসেন , ঠোট বেঁকিয়ে বিদ্রুপ করেন তাঁদের বেশিরভাগই বামপন্থী । আর হাসবেন নাই বা কেন ? এতে অবাক হওয়ার কী আছে!  এনারা যুক্তিবাদী । এনাদের দর্শনটাই ‘ মার্কসবাদ বিজ্ঞান কারন ইহা সত্য ’ র ওপর প্রতিষ্ঠিত   --- এই নিয়ে কত দেওয়াল লিখনে বাংলাকে ভরিয়ে দিতে দেখেছিলাম ।  আদতে কিন্তু তা নয় , এই বামেরা নিজেরাই হল  একটি হাস্যকর প্রজাতি। এনারা গোমুত্রেও হাসেন, বিজ্ঞানেও হাসেন।


চলুন একটু পিছনে ফিরে দেখা যাক । সালটা ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ শে জুন ---এক বিশ্ববিখ্যাত বাঙালী ডাক্তার যখন একটি সিলিঙ ফ্যান থেকে ঝুলে পড়েছিলেন, তখনও এই বামপন্থীরা হেসেছিলেন। 


যিনি আত্মহত্যা করেছিলেন তাঁর নাম ডক্টর সুভাষ মুখোপাধ্যায়। জন্ম ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩১, হাজারিবাগে। কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে শারীরবিদ্যা ( Physiology) তে স্নাতক হন।  এরপর  ১৯৫৮ খ্রীষ্টাব্দে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই  reproductive physiology তে ডক্টরেট এবং ১৯৬৭ খ্রীষ্টাব্দে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে reproductive endocrinology তে আরও একটি ডক্টরেট । 


Cryobiologist সুনীত মুখার্জী এবং gyneocologist সরোজকান্তি    ভট্টাচার্য সহযোগী করে কোনো আধুনিক গবেষণাগার আর যন্ত্রপাতি ছাড়াই ডক্টর সুভাষ মুখোপাধ্যায় জন্ম দিলেন এশিয়ার প্রথম তথা পৃথিবীর দ্বিতীয় টেষ্ট টিউব বেবি দুর্গা ওরফে কানুপ্রিয়া আগরওয়ালের। ১৯৭৮ সালের ৩রা অক্টোবর। পৃথিবীর প্রথম টেষ্ট টিউব বেবি লুইজি ব্রাউনের জন্মের মাত্র ৬৭ দিন পরে।


কি আশা করা যেতে পারত ? আদ্যন্ত   দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদে বিশ্বাসী পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী সরকার ডক্টর সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে সসম্মানে বরন করে নেবে !! 


না, বন্ধু না। তেমন কিছুই হল না ।  তবে কি হল?  পাগল ডাক্তার বলে তাকে কেবল অপমানই করা হল না, একঘরে করে দেওয়া হল। এমন একটি যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মঞ্চ তথা সভায় বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। বাম সরকার তার একটিতে হাজির হতে দেয় নি। বিদেশ ভ্রমণের সমস্ত কার্যক্রম কঠোর হাতে আটকে দেওয়া হয় পুলিশি খাতায় অপরাধী সাজিয়ে । 


১৮ই নভেম্বর, ১৯৭৮। মহানুভব এবং বিজ্ঞানমনস্ক বাম সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন। উদ্দেশ্য ? ডক্টর সুভাষ মুখোপাধ্যায় নামক একজন "convict" (বাংলায়? হ্যাঁ ঠিক বলেছেন আসামী) কে উচিত শিক্ষা দেওয়া। কমিটিতে কে কে ছিলেন?  দেখে নেবেন সেই সব দলদাস "বিজ্ঞানী " "ডাক্তার " এবং "বুদ্ধিজীবীর" নাম। এই আসামীর বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ ছিল? দেখা যাক --- 


১) এই পাগলটা বলে কিনা টেস্ট টিউব বেবী বানিয়েছে। সর্বহারার মহান দেশ সর্বশক্তিমান সোভিয়েত ইউনিয়নও পারল না, আমেরিকা , ব্রিটেন , ফ্রান্স, জার্মানি পারল না ।  আর এই লোকটা কিনা বানিয়ে ফেলল ।  তাও যদি আমাদের দলের কেউ হত!


২) আলিমুদ্দিন, রাইটার্সকে না জানিয়েই প্রেসে বলে দেওয়া হল ? কী দুঃসাহস! এটা রীতিমত বিধিভঙ্গ ! এটা চলতে দেওয়া যায় না । 


৩) ডাক্তারবাবুর খুব পাখনা গজিয়েছে বুঝি । এত মাথা উঁচু করে চলা কিসের ? এত আস্পর্ধা হয় কি করে ? এই রকম ভাটের বিজ্ঞানী পার্টি অনেক দেখেছে । কত নামী দামী ডাক্তার পার্টিকে তোয়াজ করে জানা আছে ? ওদের ল্যাব দেখেছিস? চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে বুঝলি! ওরা কেউ পারল না আর ইনি পেরে গেলেন ! এবার আমাদের বোঝাও দেখি কেমন করে পারলে !


এই  কমিটির শীর্ষে কে ছিল জানেন? এক রেডিও ফিজিসিস্ট। বাকিরা? একজন সাইকোলজিস্ট, একজন নিউরোলজিস্ট, আর একজন ফিজিসিস্ট। বলাই বাহুল্য আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি নিয়ে এদের এক ছটাকও বিদ্যা ছিল না।

 পোশাকি নাম  দাশগুপ্ত কমিটি । কমিটিতে ছিলেন ডঃ মৃণালকান্তি দাশগুপ্ত ( Radio Physics & Electronic Department , Calcutta University ) , প্রফেসর ডি,এন কুন্ডু ( Director , Saha Institute Of Nuclear Physics ) , ডাক্তার জে,সি, চট্টোপাধ্যায় ও ডাক্তার কৃপা মিনা ( দুজনেই Gynecologist ), প্রফেসর অজিত মাইতি ( Neurophysiologist , Calcutta University ) এবং প্রফেসর অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায় ( Head Physiology , Presidency College ) 


তারপর শুরু হল হেনস্থা আর অপমান! প্রশ্নের পর প্রশ্ন। হাস্যকর, অমানবিক। পার্টি আপিসে যেমন হয়। এক পিস নমুনা শোনা যাক । 


তা, ডাক্তারবাবু আপনি ভ্রুণগুলো কোথায় স্টোর করেন?

কেন এমপুলের ভেতর!

এম্পুল সিল করেন কিভাবে?

হতবাক ডক্টর মুখোপাধ্যায় শুধু একবারই উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন -- Pardon!

না মানে সিল করার সময় এমব্রায়োগুলো মরে যায় না?


সব তথ্য প্রমাণ বিচার বিবেচনা করে কমিটি  বিজ্ঞানমনস্ক রায় দিলেন -- এই লোকটি পাগল এবং যা দাবি করছে সব বোগাস!


এর মাত্র ৬৭ দিন আগেই ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যাম জেনারেল হসপিটালেই জন্ম নিয়েছে বিশ্বের প্রথম টেষ্ট টিউব বেবি লুইজি ব্রাউন। না এই বিজ্ঞানমনস্ক বাম নেতৃত্বের কেউই সে খবর রাখতেন না।


অপমানিত , লাঞ্ছিত ডাক্তার মুখোপাধ্যায় ১৯৮১ সালের ১৯ শে জুন শেষমেশ আত্মহত্যা করলেন। স্তব্ধ হয়ে যাওয়া অনন্তের এপার থেকে একজন নারী দেখল একটি সিলিঙ ফ্যান থেকে তাঁর প্রিয়তম স্বামীটির মৃতদেহ মাটি ছোঁওয়ার চেষ্টা করছে।


তারপর কেটে গেল পাঁচটি বছর ।  ১৯৮৬ সালের ১৬ই অগাস্ট ভারতের দ্বিতীয় টেস্ট টিউব বেবি জন্ম নিল। নাম হর্ষবর্ধন রেড্ডি। কৃতিত্ব ডক্টর টি সি আনন্দকুমারের। দ্বিতীয় নয়, সরকারীভাবে হর্ষই তখন ভারতের প্রথম টেষ্ট টিউব বেবি। সম্মান আর সম্বর্ধনার ঝড় বয়ে গেল। একটার পর একটা সম্মেলনে ছুটে যাচ্ছেন আনন্দকুমার। আমাদের সেই  "পাগলা" ডাক্তারটি তখন ঘুমিয়ে। অনন্তের ওপার থেকে তিনি তখনও অপেক্ষা করছেন। 


১৯৯৭ সালে এইরকমই একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডক্টর আনন্দকুমার কলকাতায় এলেন। "পাগলা" ডাক্তারের স্ত্রী এবং সহযোগী বিজ্ঞানীরা টি সি আনন্দকুমারের হাতে সমস্ত কাগজপত্র তুলে দিলেন। " পাগলার" কাগজপত্র, গবেষণা লব্ধ জ্ঞান যা তিনি লিপিবদ্ধ করে গেছিলেন- সমস্ত । 


আনন্দকুমার সত্যিই একজন বড় মাপের মানুষ ছিলেন। বিজ্ঞানমনস্ক বাম ছিলেন না।  সবকিছু পড়ে বুঝলেন । তৎক্ষণাৎ সেই সময়ের  ' Prime Minister in waiting ' কে নোট পাঠিয়ে দেখা করার সময় চাইলেন । সময় পেলেন । ডক্টর আনন্দকুমার বিরোধী দলনেতা তথা ' Prime Minister in waiting ' কে অনুরোধ করলেন ব্যাক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে যেন তিনি সংসদ এবং  Indian Medical Association বিষয়টি জানান । নাহলে বাম সাংসদরা বাঁধা দেবে । সবরকম সহযোগীতা করেছিলেন সেই বিরোধী দলনেতা । এরপর বিশ্বের বিজ্ঞানীদের সামনে ডক্টর আনন্দকুমার নতমস্তকে ঘোষণা করলেন তিনি নন, ডক্টর সুভাষ মুখোপাধ্যায়ই এই কৃতিত্বের দাবিদার। দুর্গা ওরফে কানুপ্রিয়া আগরওয়াল তাঁর ২৫ তম জন্মদিনে মিডিয়ার সামনে এলেন। বাংলা জানল, ভারত জানল, বিশ্ব জানল। সৃষ্টি জানালো তার স্রষ্টার কথা।  তখন কোথায় তার স্রষ্টা ।


তাই এই বিশেষ প্রজাতির বামগুলো যখন "বিজ্ঞান “ "বিজ্ঞান" বলে চিৎকার করে  তখন হাসি পায় । সেই কমরেডদের অনেকেই এখনও জীবিত। আর একজনও হাসেন। কে বলুন তো? সিমবায়োসিসের এম বি এ এবং মর্গ্যান স্ট্যানলির ভাইস প্রেসিডেন্ট কানুপ্রিয়া ‘ দূর্গা’  আগরওয়াল ।।


আর সেই বিরোধী দলনেতা তথা Prime Minister In Waiting নাম কিছুটা পরিচিত -


অটলবিহারী বাজপেয়ী।


দেবাশীষ লাহার লেখার ছায়াবলম্বনে 

S o v i k  R a t u l  B o s 

Courtesy Chandan Bandyopadhyay

পীর বাদশাহ

 পীর বাদশাহ


(৭)


লালকেল্লার দেওয়ান-ই-খাস এ, বিকেলের নামাজ সারা হলে, বাদশাহের মুখোমুখি হলেন রদন্দাজ খাঁ। কুর্ণিশ করে বলেন, " বাদশাহ সালামত, বেওয়াক্ত আসার জন্য গোলামের খতা (অপরাধ) মাফ করুন। একটা আরজি নিয়ে এসেছি বাদশাহ সালামত।"


" সিপাহসালার, তোমার তো এতক্ষণে নারনৌলের দিকে যাত্রা করার কথা। তুমি এখন এখানে কেন?"


অত:পর রদন্দাজ খাঁ বাদশাহকে সব কথা খুলে বলেন। সতনামীদের নেত্রী সেই  বৃদ্ধার কথা, গুজবের কথা, সেই গুজবের ফলে শাহী সৈনিকদের ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ার কথা, সবই তিনি বাদশাহের গোচরে আনেন।


মৃদুমন্দ হাসতে হাসতে বাদশাহ ঔরঙ্গজেব সব কথা শোনেন। রদন্দাজ খাঁ থামতেই বাদশাহ বেশ জোরে হেসে ফেলেন। বলেন, " ও: এই তোমার সমস্যা! সতনামীদের উস্কানি দেওয়া ওই বুড়িয়া ভীষণ চালাক আর মক্কার (শয়তান)। কিন্তু আমিও তামাম হিন্দুস্তানের বাদশাহ। চলো আমার সঙ্গে। তোমার সব মুশকিল আসান করে দিচ্ছি।"


অবাক রদন্দাজ খাঁ বাদশাহের পিছুপিছু দেওয়ান-ই-খাস থেকে বেরিয়ে আসেন।


দেওয়ান-ই-খাসের বাইরে তখন কামাল উদ্দীন, হামিদ খাঁ, দবী খাঁ, ইস্কান্দার ইয়ার বকশি, সৈয়দ মীরতাজ খাঁ, পেইরাল মেওয়াতি, মহীউদ্দীন মহম্মদ ও আরো অনেক সেনা নায়ক ও সর্দাররা ব্যগ্র হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বাদশাহকে বেরোতে দেখে সবাই কুর্ণিশ করেন ও বাদশাহের পিছুপিছু লালকেল্লা থেকে বেরিয়ে আসেন।


পনেরো হাজার মুঘল সৈনিক দাঁড়িয়ে আছে বাইরের প্রান্তরে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে যেন তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চারপাশে হাতি ঘোড়া উট ছুটোছুটি হইচই করছে। সৈনিকরা গলা নামিয়ে ফিসফিস করে নানা রকম অলীক আলোচনা করছে। 


কেউ বলছে, " ওই বুড়িয়া স্বয়ং দোজখ থেকে নেমে এসেছে।"


" আরে না না। তুমি পুরোটা জানো না। স্বয়ং আজ্রাইল বুড়িয়া সেজে এসেছেন সব ধ্বংস করতে।"


" কিয়ামতের দিন এসে গেল। তৌবা করবার ওয়াক্ত মিললো না । "


" আরে পরশুই তো আমার চাচাজাদ ভাই নারনৌল থেকে এসেছে। ও বললো যে ওই বুড়িয়া নাকি যার দিকে তাকায় সেই নাকি মুঠঠি ভর রাখ হয়ে যায়। আরে তাই না তাহির খাঁ হেরে গেছে।"


যত মুখ তত কথা আর তত গুজব। এরই মধ্যে স্বয়ং বাদশাহকে আসতে দেখে সৈনিকদের মনে একটু উৎসাহের সঞ্চার হয়। সবাই সটান দাঁড়িয়ে, স্তিমিত গলায় হলেও, জয়ধ্বনি দেয়, " বাদশাহ-ই-হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ!!"


(৮)


বাদশাহ ঔরঙ্গজেব প্রান্তরের একটা উঁচু যায়গায় গিয়ে দাঁড়ান। হাত তুলে জয়ধ্বনি থামাবার নির্দেশ দেন। 


জয়ধ্বনি থামলে বাদশাহ আবেগপূর্ণ স্বরে বলতে শুরু করেন, " শুনলাম আমার এই বাহাদুর মুঘল সৈনিকরা নাকি সতনামী কাফেরদের নেতা এক মক্কার বুড়িয়ার ভয়ে কাবু হয়ে পড়েছে। ওই বুড়িয়া হয়তো জাদু টোনাও কিছু কিছু জানে। কিন্তু তোমরা তো জানো যে শয়তান আল্লাহ্‌ পরস্ত ইসলাম পরস্ত সাচ্চা ইনসানের উপর কখনো ফতেহ পায়নি।


তোমরা আমার দিকে দেখ। আমি বাদশাহ -ই-হিন্দুস্তান। তবুও আমি ইসলামের সব নিয়ম কানুন পুরোপুরি কঠোর ভাবে মেনে চলি। যেখানেই থাকি না কেন, দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে আমার কখনো ভুল হয়না। আমি শরাব পান করি না। তওয়াইফদের নাচ দেখিনা, গান বাজনা শুনি না।

কোনরকম আভূষণ বা মণি মাণিক্য শরীরে ধারণ করি না। তোমরা হর রোজ যা খাও আমিও তাই খাই। তোমাদের মত আমিও জমিনে শুই। পীর ফকির দরবেশদের ইসলামের নিয়ম মত খয়রাত জাকাত করি। কোরাণ শরীফ লিখে ও নামাজের টুপি বানিয়ে আমি যা রোজগার করি শুধু মাত্র তাই দিয়ে আমার নিজের রোজকার খরচ চালাই। এখন তোমরাই বলো আমি কি আল্লাহ্‌ পরস্ত ইসলাম পরস্ত সাচ্চা ইনসান নই? " 


পনেরো হাজার সৈনিক একযোগে চেঁচিয়ে ওঠে, " বাদশাহ সালামত, আপনি একজন নেকদিল সাচ্চা আল্লাহ্‌ পরস্ত ইনসান।"


বাদশাহ ঔরঙ্গজেব আবার ওজস্বী ভাষায় বলতে শুরু করেন, " আমার বাহাদুর সৈনিকেরা, তোমরা ইসলামের শক্তি যে কতটা তা তামাম হিন্দুস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছ। ইসলামের পরচম (পতাকা) আজ তামাম হিন্দুস্তানে বুলন্দ হয়েছে তোমাদেরই বাহাদুরির জন্য। কত বড় বড় রাজা,  সেনাপতি, কত বড় বড় সেনাদল ইসলামের শক্তির মোকাবিলা করতে গিয়ে রাখ হয়ে গেছে। তোমাদের তরবারির সামনে, বাহাদুরির সামনে, রাজপুত, মারাঠা, তেলেঙ্গা কেউ দাঁড়াতে পারেনি। আর সেই তোমরা কিনা একটা মক্কার বুড়িয়াকে ভয় পাচ্ছ।


দেখ সবাই আমার দিকে। আমি কি শুধুই বাদশাহ-ই-হিন্দুস্তান?  না। আমি কি তাহলে  শাহানশাহ-ই-হিন্দুস্তান?  আমি কি তামাম হিন্দুস্তানের মালিক?  না আমি তাও না। আমি হলাম দরবেশ। আমি আমার তামাম জিন্দেগী আল্লাহ্‌র বন্দেগীতে কাটিয়েছি। আল্লাহতালার দোয়া হর ওয়াক্ত আমার সরপরস্ত হয়ে আছে। আমি ফকির!!!  আমি পীর!!! আমি পীর!!!...."


সমস্ত সৈনিক ও সেনানীরা একবারে মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে বাদশাহের কথা শুনছিল। বাদশাহ ইশারায় ঝাণ্ডাবরদারকে (পতাকা বাহক) নিজের কাছে ডাকেন। 


সে কাছে এলে পর বাদশাহ মুন্সীর কাছ থেকে কলম নিয়ে শাহী ঝাণ্ডার উপর কিছু লিখতে থাকেন।  তারপর আকাশের দিকে দুহাত তুলে অস্ফুট স্বরে খানিকক্ষণ প্রার্থনা করেন।  তারপর শাহী ঝাণ্ডায় তিনবার ফুঁ দেন।


তারপর আবার দৃপ্তকণ্ঠে বলতে শুরু করেন, " আমি দরবেশ ঔরঙ্গজেব, ফকির ঔরঙ্গজেব, পীর ঔরঙ্গজেব, ইসলাম পরস্ত ঔরঙ্গজেব, আল্লাহ্‌ পরস্ত ঔরঙ্গজেব নিজের হাতে এই ঝাণ্ডায় আল্লাহ্‌র দোয়া লিখে দিলাম। ওই মক্কার বুড়িয়ার যাদু টোনা আর তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, এবারেও ফতেহ-ই-জঙ্গ ইসলামের হবে। ফতেহ-ই-জঙ্গ তোমাদেরই হবে। 


বাদশাহের দৃপ্তভাষণ সৈনিকদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জাগিয়ে তোলে। চমৎকৃত সৈনিকরা নিজেদের অস্ত্র আকাশের দিকে তুলে আল্লাহ্‌ ও বাদশাহের নামে জয়ধবনি তোলে। তাদের উৎসাহ দেখে কে বলবে যে একটু আগেই এরা ধুঁকছিল।


বাদশাহ ঔরঙ্গজেব, এবার সিপাহশালার রদন্দাজ খাঁ এর দিকে তাকিয়ে বলেন, " তোমার মুশকিল আসান করে দিয়েছি। যাও এবার জঙ্গ ফতেহ করে এস।"


(৯)


যখন মুঘল সেনাবাহিনী নারনৌলের কাছে গিয়ে পৌঁছায় তখন সতনামীরা আবার তীব্র গতিতে আক্রমণ করে। ভয়ানক যুদ্ধ শুরু হয়। দুপক্ষই প্রাণপনে লড়তে থাকে। রণনিপুণ ও শক্তিশালী মুঘল সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণ উপেক্ষা করে সতনামীরা অসাধারণ বীরত্বের প্রদর্শন করে। অবশেষে রদন্দাজ খাঁ শুধুমাত্র সংখ্যাধিক্যের জন্য অতিকষ্টে সতনামীদের পরাজিত করতে সক্ষম হন।


প্রায় সাত হাজার সতনামী এই যুদ্ধে প্রাণ দেয়। অপরদিকে সিপাহশালার রদন্দাজ খাঁ যুদ্ধে জিতলেও শাহী মুঘল সেনা প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পনেরো হাজারের মধ্যে মাত্র দেড় হাজারের মত মুঘল সৈনিকই যুদ্ধশেষে দিল্লি ফিরতে পেরেছিল। তবে এরপর থেকে বাদশাহ ঔরঙ্গজেব আর সতনামীদের পিছনে কখনো লাগেননি। শুধু অস্ত্র শস্ত্র সাথে রাখার ব্যপারে কিছু বিধি নিষেধ চালু করেছিলেন। সতনামীরাও নিশ্চিন্ত মনে নিজেদের আসল কাজ, সামাজিক ভেদভাব দূর করাতে মনযোগ দিয়েছিল।


বাদশাহ ঔরঙ্গজেব কুশলী ও বুদ্ধিমান প্রশাসক ছিলেন। তিনি ভালো করেই জানতেন যে ধর্মের আশ্রয় নিয়ে সবাইকে যত সহজে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করা যায় ততটা আর কোন কিছুর সাহায্যে করা যায় না। তাই নিজের সৈন্যদলকে রণে উৎসাহিত করতে তিনি সেই ধর্মের পথই অবলম্বন করেছিলেন। ধর্মের প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্বলতা ও দৃঢ় বিশ্বাসকে সুচতুর ভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি সতনামী বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।


যুদ্ধের শেষে সেই বৃদ্ধাকে কিন্তু রদন্দাজ খাঁ জীবিত বা মৃত খুঁজে পাননি। সেই বৃদ্ধার কি পরিণতি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত্য সে সম্বন্ধে ইতিহাস নীরব।


সতনামী বিদ্রোহ দমন করে রদন্দাজ খাঁ দিল্লি ফিরে এলে, বাদশাহ ঔরঙ্গজেব অতীব প্রসন্ন হয়ে তখত-ই-তাউস থেকে নেমে এসে তাকে আলিঙ্গন করেন ও পরে " শজাঅত খাঁ " উপাধি প্রদান করে সন্মানিত করেন।


নিজের শাসনকালে অনেক বিদ্রোহ দমন করেছিলেন বাদশাহ ঔরঙ্গজেব।  কিছু ঐতিহাসিকদের মতে যে সব বিদ্রোহ দমন করতে তাঁকে খুব বেগ পেতে হয়েছিল সতনামী বিদ্রোহ ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম।


সমাপ্ত


পীর বাদশাহ

 পীর বাদশাহ


(৪)


যথা সময়ে গুপ্তচর নারনৌলের ভারপ্রাপ্ত শিকদারের কানে এই ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ তুলে দিল।


এই খবর শুনে শিকদার চেঁচিয়ে উঠল রেগে আগুন হয়ে, " এই ন্যাড়া কাফেরদের সাহস দিন দিন বেড়ে উঠছে দেখছি। শাহী পেয়াদার গায়ে হাত তোলে এরা। এত হিম্মত এদের।"


" হুজুর, আশে পাশের সব গ্রামের সতনামীরা এসে নারনৌলের কাছে এক কাট্টা হচ্ছে। হুজুর, গুস্তাখি মাফ করুন, এর হয়তো বাগাওয়াত (বিদ্রোহ) করতে  পারে।"


" খবরদার, নিজের জবান কে লাগাম দাও গুস্তাখ। ইনশাল্লাহ!  বাদশাহ সালামতের বিরুদ্ধে বাগাওয়াত করবে এই কাফেররা। খোয়াব দেখছো নাকি তুমি।"


" হুজুর আমি আপনার নমক হালাল গোলাম। মাফি দিয়ে দিন।"


" হুঁ, মাফ কিয়া। তুমি যাও এখন। ওই ন্যাড়াদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখ। আমি ভেবে দেখি কি করা যায়। বাগীদের তালিম কি ভাবে দিতে হয় তা আমার জানা আছে।"


পরে একটু ঠাণ্ডা হয়ে শিকদার ভেবে দেখে যে তার বহুদিনের পুরানো গুপ্তচর তাকে ভুল খবর দেবে না। ওই ন্যাড়া কাফেরগুলো হয়তো সত্যিই বাদশাহ সালামতের বিরুদ্ধে বাগাওয়াতের ধান্দা করছে। ওই কাফেরগুলোকে যদি ভালো রকম শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে বাদশাহের সুনজরে পড়ার একটা সুযোগ পাওয়া  যাবে। চাই কি একটা সর্দারি বা মনসবদারি পাওয়াও অসম্ভব নয়। বাদশাহ খুশি হলে কিনা হতে পারে।


এইসব ভেবে শিকদার পরদিনই নিজের অধীনস্থ একদল শাহী সিপাহিকে সতনামীদের শায়েস্তা করতে পাঠিয়ে দেয়।


ওদিকে নারনৌলের কাছের একটা মাঠে, আশে পাশের গ্রামের বেশ কিছু সতনামী জড়ো হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হওয়া উচিৎ, তাই নিয়ে আলাপ  আলোচনা চালাচ্ছিল। শাহী সিপাহিদের আসার খবর পেয়ে তারা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তূত হয়।


শাহী সিপাহিরা কিছু বুঝতে পারার আগেই সতনামীরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সতনামীরা যে অস্ত্র চালনায় এত দক্ষ তা এই সিপাহিরা বা তাদের উপরওয়ালা শিকদার স্বপ্নেও ভাবেনি। তাই কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় যে শাহী সিপাহিদের প্রাণহীন দেহগুলো মাঠের মধ্যে ইতস্তত পড়ে আছে।


শাহী সৈনিকদের এই দুর্দশার খবর দাবানলের মত নারনৌল ও তার আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিপদ বুঝে শিকদার দ্রুতগামী অশ্বে নিজের দূতকে দিল্লির দিকে রওনা করে দেয়।


(৫)


ওদিকে সতনামীরাও এবার খোলাখুলি বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। খবর পেয়ে দূর দুরান্তের সতনামীরা অস্ত্র শস্ত্র সহ সবাই এসে নারনৌলে জড়ো হতে থাকে। তবে একটা মুশকিল দেখা দেয়। সতনামীদের প্রধান নেতা কে হবে তা তারা ঠিক করে উঠতে পারে না।


এমন সময় হঠাৎ সতনামীদের জমায়েতের কাছে আবির্ভাব হয় এক বৃদ্ধার। তিনি কে ছিলেন বা তার নাম কি ছিল ইতিহাসে তা লেখা নেই।


তবে বর্তমানের ম্যানেজমেন্ট শাস্ত্রে যাকে বলা হয় মোটিভেশন বা ম্যান ম্যানেজমেন্ট, তাতে যে এই বৃদ্ধা পারদর্শী ছিলেন, তা তার পরবর্তী কার্য্যকলাপ দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়।


বৃদ্ধা দৃপ্ত ভঙ্গীতে সতনামীদের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারপর ওজস্বী এবং আবেগপূর্ণ ভাষায় তাদের সম্বোধন করে বলতে থাকেন, " হে আমার সতনামী পুত্রেরা, তোমরা সব সময়য় নিজেদের নামের অনুরূপ সত্য জীবন যাপন করেছ। জ্ঞানত: কারুর উপর কখনো অত্যাচার করনি। অন্যায় করনি। অন্যায় ভাবে কারুর থেকে কিছু অপহরণ করনি। নিজেরা উপবাসে থেকেছ। স্ত্রী পুত্র কন্যাকে উপবাসে রেখেছ। তবুও লোভের পথে কখনো পা বাড়াও নি। সত্যিকারের সন্ন্যাসী তো তোমরাই। এই গৈরিক বস্ত্রের সত্যিকারের আধিকারি তো তোমরাই। আর সত্যিকারের সন্ন্যাসীরা কখনো অন্যায় সহ্য করে না। তোমাদেরও বাদশাহের অন্যায়  অত্যাচার অবিচার সহ্য করা উচিৎ নয়....."


বৃদ্ধার তেজোদৃপ্ত  বক্তৃতা সতনামীরা একমনে শুনতে থাকে। নিজের বক্তৃতার প্রভাব সতনামীদের উপর পড়ছে লক্ষ্য করে বৃদ্ধা আবেগপূর্ণ স্বরে বলে চলেন, " হে আমার বীর পুত্ররা আমার দিকে দেখ। আমি বয়স্কা বৃদ্ধা। তবুও আমি তোমাদের কাছে এসেছি। নিজের পুত্রদের বিপদের দিনে আমি তাদের পাশে থাকতে চাই। আর হ্যাঁ, আমাকে তোমরা সাধারণ একজন বৃদ্ধা মহিলা মনে করোনা। আমি মন্ত্র জানি। যুদ্ধে কোন কারনে তোমাদের কারো স্বর্গলাভ হলে তার জায়গায় তৎক্ষণাৎ আরো পঞ্চাশ জন সতনামী উঠে দাঁড়াবে। হা: হা: হা: ঔরঙ্গজেব, এবার তুই দেখবি আমার মন্ত্রের জোর।"  এই বলে বৃদ্ধা বিকট শব্দে হেসে ওঠেন।


প্রচণ্ড উৎসাহে সতনামীরা একযোগে সেই বৃদ্ধার উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি দিতে থাকে এবং সেই বৃদ্ধাকেই নিজেদের প্রধান নেতা বলে মেনে নেয়।


(৬)


এবার সতনামীদের দমন করতে এলেন তাহির খাঁ। দিল্লি থেকে পাওয়া আদেশ অনুসারে নারনৌলের ফৌজদার তাহির খাঁ বেশ বড় একদল সৈন্য নিয়ে সতনামীদের মুখোমুখি হলেন।


কিন্তু উৎসাহে ভরপুর সতনামীরা সেই বৃদ্ধার নেতৃত্বে  বাজপাখির মত তাহির খাঁ এর সৈন্যদলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাহির খাঁ হার স্বীকার করেন। সতনামীরা নারনৌল শহর পুরোপুরি দখল করে নেয়।


শহর দখল করেই সতনামীরা পুরো জেলার শাসন ব্যবস্থা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এবং ব্যবসায়ী ও চাষিদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম কর আদায় করতে থাকে। শহর থেকে মুঘল শাসনের সমস্ত চিহ্ন নষ্ট করে ফেলা হয়।


এই বিদ্রোহের খবরও অচিরেই দিল্লি পৌঁছে যায়। শাহী সৈন্যদলের মধ্যে এই গুজবও ছড়িয়ে পড়ে যে সতনামীদের নেতৃত্ব করছে এমনন এক বৃদ্ধা যে কিনা যাদু মন্ত্রের প্রকাণ্ড পণ্ডিত। তার মন্ত্রের জোরে একজন সতনামী মারা গেলেই পঞ্চাশ জন তার যায়গায় উঠে দাঁড়ায়। সেই জন্যেই তো শিকদার ও ফৌজদার তাহির খাঁ এর সৈন্যদল সতনামীদের কাছে যুদ্ধে হেরে গেছে। নইলে কতগুলো গাঁওয়ার জাহিল কাফের কিভাবে রণ নিপুণ শাহী মুঘল সৈন্যদের লড়াইয়ে হারিয়ে দেয়।


তাহির খাঁ এর দুর্দশার খবর পেয়ে বাদশাহ ঔরঙ্গজেব বুঝতে পারেন যে এবার এই বিদ্রোহ দমন করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই তিনি সিপাহশালার রদন্দাজ খাঁকে, পনেরো হাজার মুঘল সৈনিক নিয়ে গিয়ে, অবিলম্বে বিদ্রোহ দমন করার আদেশ দেন। সঙ্গে তোপখানাও যাবে।


১৫ মার্চ ১৬৭২ সাল। রদন্দাজ খাঁ যাত্রার জন্য তৈরি   সৈন্যদল নিয়ম মাফিক পরিদর্শন করে বুঝলেন যে সেই গুজবের প্রভাবে রণ নিপুণ বীর মুঘল সৈনিকরা প্রচণ্ড রকম ভীত ও উৎসাহহীন হয়ে পড়েছে।


ক্রমশ:.


পীর বাদশাহ

 পীর বাদশাহ

(১)

ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সিপাহশালার রদন্দাজ খাঁ। এই রকম উৎসাহহীন সৈন্যদল নিয়ে যে যুদ্ধ জেতা যায় না তা তিনি বোঝেন।


সামান্য সিপাহী হয়ে বাদশাহী ফৌজে ঢুকেছিলেন রদন্দাজ খাঁ। তারপর নিজের শৌর্য্য বীর্য্য বাহুবল দেখিয়ে ধাপে ধাপে উপরে উঠে এসেছেন। বর্তমানে বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের প্রধান সেনানায়কদের মধ্যে তিনি একজন।


ভাল করেই জানেন তিনি যে উৎসাহে পরিপূর্ণ কিন্তু সংখ্যায় নগণ্য সৈন্যদল নিয়ে বিশাল সৈন্যবাহিনীকেও পরাস্ত করা সম্ভব। কিন্তু উৎসাহহীন বিশাল সেনাবাহিনী নিয়েও মুষ্টিমেয় শত্রুকেও পরাজিত করা অতি দুষ্কর কর্ম। সে শত্রুও আবার যেমন তেমন নয়, একেবারে "সতনামী" শত্রু, যারা ইতিমধ্যে দুবার শাহী সেনাদলকে পরাস্ত করেছে।


সতনামী বিদ্রোহ দমন করার জন্য বাদশাহ ঔরঙ্গজেব তোপখানা সহ পনের হাজার শাহী মুঘল সৈনিক পাঠাবার নির্ণয় করেছেন। সেই সৈন্যদলের প্রধান সিপাহশালার নিযুক্ত হয়েছেন রদন্দাজ খাঁ।


কিন্তু সৈন্যদল পরিদর্শন করতে গিয়ে অবাক হন তিনি। সাধারণ সৈনিকদের, এমনকি অধীনস্থ সেনানীদেরও যেন যুদ্ধে যাবার কোন উৎসাহই নেই। নেহাতই বাদাশাহের আদেশ, তাই যেন তারা যাচ্ছে - এইরকম ভাব সবার মনে। অথচ এরা কোন ভীরু কাপুরুষ নয়। সবাই পোড় খাওয়া সৈনিক। এর আগে এইসব সৈনিকরা ও সেনানীরা অনেক জয় ছিনিয়ে এনেছে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও।


" না: এইসব সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ জেতা যায়না। সৈন্যদলের এই মনোভাব অতি অবশ্যই জাঁহাপনার নজরে আনা দরকার। " মনে মনে ভাবেন রদন্দাজ খাঁ এবং বাদশাহের সাথে দেখা করার জন্য লালকেল্লার দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে দেন।


কারা এই সতনামীরা?  কেন তারা বিদ্রোহ করেছিল বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে যার জন্য এই বিপুল সমরায়োজন? এসব জানতে হলে আমাদের বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের সময় থেকেও একটু পিছিয়ে যেতে হবে।


(২)


হিন্দুদের সামাজিক ও ধার্মিক ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদেরএকাধিপত্য আবহমান কাল ধরে চলে আসছে।


কিন্তু এর পাশাপাশি এই একাধিপত্য এবং জাতপাতের অন্ধবিশ্বাসের  ও অন্যান্য সামাজিক কুরীতির শিকল ভাঙার চেষ্টাও সেই সুপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। বৌদ্ধ এবং জৈনরা অনেকবার ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং অন্যান্য সামাজিক কুরীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। অবশ্য পরে কালক্রমে এই দুই ধর্মের মধ্যেও নানা কুরীতি ঢুকে পড়ে।


এসবের পাশাপাশি হিন্দু ভক্তি ও বৈষ্ণব আন্দোলনের নেতারা ও প্রচারকরাও প্রাণপণে জাত পাত এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে সব থেকে বিখ্যাত কয়েকজন হলেন সন্ত কবীর দাস, সন্ত রুই দাস, মহাপ্রভু চৈতন্যদেব প্রভৃতি।


সন্ত রুই দাস ছিলেন তথাকথিত ছোট জাতের অন্তর্গত। তিনি প্রচার করেন যে ঈশ্বরের কাছে উঁচু জাত নীচু জাত বলে কিছু নেই। যে কেউ নিজের ইচ্ছামত ঈশ্বরের আরাধনা করতে পারে। এই স্বাধীনতা সবারই আছে।


 নিজের উদার মতবাদের জন্য রুই দাস বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই মতবাদকে অবলম্বন করে " রুইদাসিয়া সংগঠন " নামের এক বিশাল সংগঠন গড়ে ওঠে। এই শক্তিশালী সংগঠন বিভিন্ন সামাজিক কুরীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে থাকে।


এই রুইদাসিয়া সংগঠনেরই একটা শাখা ছিল সতনামী সংগঠন।


বর্তমানের হরিয়ানা প্রদেশের অন্তর্গত নারনৌলের কাছের বিজেসর গ্রামের অধিবাসী বীরভান ১৫৪৩ সালে এই সতনামী সংগঠনের ভিত্তি স্থাপন করেন। এই সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের সতনামী বলতো।


ধীরে ধীরে এই সতনামী সংগঠন বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। তথাকথিত নিম্ন বর্ণের ও পেশার ব্যক্তিরা,  যেমন চাষী, গোয়ালা, ডোম, চামার,  আহীর ইত্যাদি এই সতনামী সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়।


এই সতনামীরা সন্ন্যাসীদের মত গেরুয়া বস্ত্র ধারণ করতো। নিজেদের সংগঠনের আদর্শকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতো এবং সেই নিয়ম মত জীবন যাপন করতো। নিজেদের আচারে ব্যবহারে এবং ব্যক্তিগত জীবনে এরা ছিল অত্যন্ত সদাচারী। কোন রকম অন্যায় বা অসৎ কাজে এরা লিপ্ত হতো না।


তবে নিজেদের সংগঠনের উপর কোনরকম অন্যায় বা কটাক্ষ এরা বরদাস্ত করতো না। এবং সব সময় তার তীব্র প্রতিবাদ করতো।


এদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল বিভিন্ন রকম অস্ত্র চালনায় নিপুণ। এরা নানা রকম অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতো।


এদের বিরোধ বাঁধত বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের সাথে। এরা সরকারি কর্মচারীদের কোন রকম অন্যায় বা শোষণ বরদাস্ত করতো না।

অবশ্য এদের উগ্র মনোভাবের জন্য সরকারি কর্মচারীরাও এদের বিশেষ ঘাঁটাতো না।


পরবর্তী কালে এই সতনামীদের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রথার প্রচলন হয়। নিজেদের মধ্যে আরো বেশি একতা আনার জন্য এরা নিজেদের চুল দাড়ি গোঁফ এমনকি ভুরু পর্য্যন্ত কামিয়ে ফেলতে শুরু করে।


(৩)


১৬৭২ সাল। দিল্লির শাহী তখতে তখন বাদশাহ ঔরঙ্গজেব বিরাজমান। এমন সময় একদিন এক শাহী পেয়াদা সরকারী কোন কাজে নারনৌলের কাছের কোন এক গ্রামের রাস্তা দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। হটাৎই তার নজরে পড়ে যে শাহী সড়কের পাশের এক ক্ষেতে এক গেরুয়া বস্ত্র পরা চাষি চাষ করছে। তার চুল দাড়ি গোঁফ ভুরু সব পরিষ্কার ভাবে কামানো। এরকম এক অদ্ভুত মূর্তি দেখে শাহী পেয়াদা হাসি সামলাতে পারে না।


হাসির আওয়াজে সেই অদ্ভুত মূর্তি চাষি পেছন ফিরে শাহী পেয়াদাকে দেখে ক্রুদ্ধ স্বরে জিজ্ঞাসা করে, " এই, তুই হাসছিস কেনো? "


" আরে এই ব্যাটা ন্যাড়ার কথা শোনো। ওরে ন্যাড়া তোকে দেখে তো সবাই হাসবে।" হা: হা: হা:...শাহী পেয়াদা আবার বেদম হাসিতে ভেঙে পড়ে।


" এই খবরদার বলছি, হাসবি না। আর ন্যাড়া ন্যাড়া বলবি না। আমি সতনামী।"


" ওরে তুই সতনামী হোস কি বদনামী, তাতে আমার কি?  তবে তোকে দেখে হাসি পাচ্ছে তো তার আমি কি করবো...হা: হা:হা:"


" কি বললি, আমি বদনামী?  দাঁড়া, তোকে মজা দেখাচ্ছি।" এই বলে সেই চাষি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শাহী পেয়াদার দিকে ছুটে আসতে থাকে।


সেই চাষি কাছে আসতেই শাহী পেয়াদা কিছু না ভেবে চিন্তে অনেকটা আত্মরক্ষার খাতিরেই নিজের লাঠির এক ঘা সেই চাষির মাথায় বসিয়ে দেয়। 


চাষির মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। কিন্তু সেই লম্বা স্বাস্থ্যবান জোয়ান চাষি তাতে কাবু হয়না। নিজের ক্ষতস্থানে হাত চাপা দিয়ে সে জোরে জোরে চেঁচাতে থাকে।


তার চেঁচানি শুনে আসে পাশের ক্ষেত থেকে আরো কয়েকজন সেইরকম গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত অদ্ভুত দর্শন চাষি ছুটে আসে।


প্রথম চাষির মাথা থেকে রক্ত ঝরছে আর হতভম্ব পেয়াদার হাতে রক্তমাখা লাঠি -- এই দেখে তাদের সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কোন রকম বেগ পেতে হয়না। চাষিরা সবাই মিলে শাহী পেয়াদাকে ঘিরে ধরে। বিপদ বুঝে পেয়াদাও নিজের পদমর্য্যাদা ভুলে ক্ষমা চাইতে থাকে।


কিন্তু ততক্ষণে বারুদের স্তূপে আগুন ধরে গেছে। সতনামী চাষির দল প্রচণ্ড ক্রোধে শাহী পেয়াদাকে মারধোর শুরু করে দেয়।


সতনামীদের সহানুভূতি সব সময় হতদরিদ্র  যুগ যুগ ধরে বঞ্চণার শিকার ও পদ দলিত তথাকথিত নিম্নবর্ণের ব্যক্তিদের প্রতি ছিল। কেননা তাদের নিজেদের মধ্যেও বেশির ভাগ মানুষই ছিল সেই বর্গের প্রতিনিধি।


শাহী পেয়াদা ছিল সমাজের সব থেকে উঁচু তলার অত্যাচারী শাসকের প্রতিনিধি। তাই মার খেতে খেতে যখন শাহী পেয়াদার মৃতদেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল তখন সতনামী চাষিদের ক্রোধ শান্ত হল।


ক্রমশ: