Monday, November 16, 2020

ভাই ফোঁটা भाई दूज Bhai Duj

 সব দিদিদের ও বোনদের  ভাইফোঁটার যথাযোগ্য  প্রনাম স্নেহ ভালবাসা শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানাই। 


सभी दीदीओं तथा बहनों को भाई दूज की प्रणाम शुभेच्छा आशीर्वाद व प्यार।


Wishing all the Didis and sisters Subha Bahai Duj.


ভাই ফোঁটা 


বারো মাসের তেরো পার্বণে বাঁধা বাঙালি হিন্দুসমাজের জীবনাচার। এর কোনোটি ধর্মীয় প্রথা, কোনোটি লৌকিক। ভাইফোঁটা হচ্ছে তাদের মধ্যই একটি আচার, যা কোন প্রচলিত পূজা-পার্বণ নয়। বাঙ্গালীর ঘরে ‘ভাইফোঁটা’ হচ্ছে সবচেয়ে আনন্দময়, নির্মল, একটি পার্বণ। ভাই-বোনের মধ্যেকার অনিন্দ্যসুন্দর সম্পর্ক ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে এই উৎসবটি।


“ভ্রাতৃদ্বিতীয়া” বা “ভাইফোঁটা” উৎসব কেন করা হয় তার পিছনে অনেক পৌরাণিক ব্যাখ্যা বা কাহিনী রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, “কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনাদেবী তাঁর ভাই যমরাজের মঙ্গল কামনায় আরাধনা করেন; যার পুণ্যপ্রভাবে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। বোন যমুনা দেবীর পুজার ফলে ভাই যমের এই অমরত্ব লাভের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বর্তমান কালের বোনেরাও এই সংস্কার বা ধর্মাচার পালন করে আসছে।”


অপর একটি সূত্রে জানা যায় যে, “ একদা প্রবল পরাক্রমশালী বলির হাতে বিষ্ণু পাতালে বন্দি হন। দেবতারা পড়েছেন মহা বিপদে, কারন কোন মতেই তাঁরা নারায়ণকে বলির কবল থেকে বার করে আনতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলেন স্বয়ং লক্ষ্মী। তিনি বলিকে ভাই হিসেবে স্বীকার করেন। সেই উপলক্ষে তাঁর কপালে তিলক এঁকে দেন। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তখন স্বীকার করে বলি লক্ষ্মীকে উপহার দিতে চাইলে লক্ষ্মী চেয়ে নেন ভগবান বিষ্ণুকে। সেই থেকেই ভাইফোঁটা উৎসবের সূচনা”


এই সকল পৌরাণিক ব্যাখ্যা বা কাহিনি যাই থাকুক না কেন, বর্তমানে ভাইফোঁটা একটি সামাজিক উৎসব। এই উৎসবে এক দিকে যেমন পারিবারিক সম্পর্কগুলো আরও পোক্ত হয়; অন্য দিকে সূচিত হয় নারীদের সামাজিক সম্মান। তাই, ভাইফোঁটার ধর্মীয় গুরুত্ব অপেক্ষা সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব অনেক বেশী, যেখানে ভাই-বোনের মধ্যেকার প্রীতি ও ভালোবাসার স্বর্গীয় সম্পর্কটিই মূখ্য। 


আমরা সামাজিক জীব। আমাদের সমাজ তৈরী হয় প্রথমে ঘর থেকে। মা-বাবা, ভাই-বোন দিয়ে যে পরিবার শুরু হয়, সেই পরিবারটিই সময়ের সাথে সাথে আত্মীয়তার বন্ধন বিস্তৃত করে, ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশী, প্রতিবেশী পেরিয়ে পাড়া, গ্রাম ছাড়িয়ে একদিন সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। আজ বাংলার যে নানা লোকাচার রয়েছে, যা দিয়ে বাঙালির সংস্কৃতিকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায়, তারই অনিবার্য অঙ্গ ভাইফোঁটা।


ভ্রাতস্তব ললাটে হি দদামি তিলকং শুভম ।

অতঃপরং যমদ্বারে ময়া দত্তং হি কন্টকম ।।


ভাইএর কপালে দিলাম ফোঁটা

যমের দুয়ারে পরলো কাঁটা। 


আমার সব বোন ও দিদিদের যথাযোগ্য প্রণাম শ্রদ্ধা স্নেহ ভালবাসা আশীর্বাদ জানাচ্ছি।




0 Comments:

Post a Comment

Subscribe to Post Comments [Atom]

<< Home